1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

কুতুবদিয়ার ফতেহ আলী সিকদার পাড়া সিসিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

‎নজরুল ইসলাম, ‎কুতুবদিয়া (কক্সবাজার)প্রতিনিধি: ‎কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ফতেহ আলী সিকদার পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে (সিসি) নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ক্লিনিকটি পরিদর্শনে এসব অভিযোগের কিছু দৃশ্যমান চিত্রও পাওয়া গেছে।

‎‎সম্প্রতি সকালে ক্লিনিকটিতে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের বসার নির্ধারিত স্থানে ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ক্লিনিকের আশপাশেও ছিল অপরিষ্কার। এ সময় সিএইচসিপি মনিরা বেগমকে তার নির্ধারিত কক্ষে কয়েকজন মধ্যবয়সী নারীর সঙ্গে কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এতে কর্মঘণ্টায় রোগীসেবার পরিবর্তে আড্ডায় সময় কাটানোর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎‎ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ১, ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড এ সিসির ক্যাচমেন্ট এলাকার অন্তর্ভুক্ত। প্রায় সাত হাজার মানুষ এ কেন্দ্রের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল। এখানে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।

‎‎জানা যায়, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অর্থায়নে ক্লিনিকটিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে দুটি ওয়াশরুম, সিএইচসিপি, প্রসূতি, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী ও স্বাস্থ্য সহকারীদের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছু মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

‎এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, মনিরা বেগম যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেন না।দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইচ্ছেমত সিসিতে আসেন এবং যান। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনকে সরকারি ওষুধ দেন। এমনকি সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে গোপনে বিক্রির অভিযোগও করেছেন তারা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান চলমান আছে।

‎‎অভিযোগের বিষয়ে মনিরা বেগম উল্টো দাবি করেন, কুতুবদিয়ার কয়েকটি সিসিতে কর্মরত ব্যক্তিরা সোলার ব্যাটারি নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। দুটি সিসির সোলার প্যানেল নষ্ট হয়ে গেছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, সিএইচসিপির দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর কাজও করেন। তাছাড়াও তিনি জানান, সিসিতে সরকারি ওষুধের সরবরাহ সীমিত। অনেক কষ্ট করে সামাল দিতে হয়। তবে একটি বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলার কথা অজান্তে হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

‎‎মনিরা বেগমের এসব পাল্টা অভিযোগেরও তাৎক্ষণিক সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সব সিসির সোলার সরঞ্জাম, সরকারি ওষুধ, কর্মীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব বণ্টন তদন্তের দাবি উঠেছে।

‎‎কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ বলেন, দায়িত্বে অবহেলাসহ আনিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সিএইচসিপি এসোসিয়েশন কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম বলেন, সিসিতে তিন মাসের জন্য ২টি মেডিসিন কীট দেওয়া হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। মাসের শেষ হওয়ার আগেই ঔষুধ শেষ হয়ে যায়।যে কারনে রোগীরা প্রায় অভিযোগ করে মেডিসিন নিয়ে।

‎স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd