1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

কিউবায় আবারও দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিদেশ : আবারো জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট। হঠাৎ পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশটির কোটি মানুষ। স্থানীয় সময় গত রোববার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এঙ্-এ দেওয়া এক বার্তায় কিউবার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ‘ইলেকট্রিক ইউনিয়ন’ গ্রিড বিপর্যয়ের তথ্য জানায়। তবে তারা এই বিপর্যয়ের মূল কারণ, ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে- সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি। কিউবাজুড়ে এই ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আগেই রাজধানী হাভানার বিদ্যুৎ বিভাগ বেশ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার ভোর থেকেই গুয়েনাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা এবং মারিয়ানাউ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা হতে থাকে। মূল গ্রিড ভেঙে পড়ার আগে থেকেই ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া, সার্কিট ফিলিয়ার এবং অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে পরিকল্পিত লোডশেডিং চলছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবা কর্তৃপক্ষ আপাতত হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জরুরি খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্রের জন্য ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল করার চেষ্টা করছে। এসব জরুরি সেবা সচল হওয়ার পর ধীরে ধীরে মূল কেন্দ্রগুলোকে আবার জাতীয় গ্রিডে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ধারাবাহিক ব্ল্যাকআউট
চলতি বছরে কিউবায় এটিই প্রথম ব্ল্যাকআউট নয়। গত জুলাই মাসেই মাত্র নয় দিনের মধ্যে তিনবার জাতীয় গ্রিড ভেঙে পড়েছিল, যার মধ্যে একই সপ্তাহে দুবার পুরো দ্বীপ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ব্ল্যাকআউটে প্রায় ১ কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। সে সময় নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরেও দেশের চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হয়। জ্বালানি সংকট, খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব এবং পুরোনো থার্মোইলেক্ট্রিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সেখানকার কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং সেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। কিউবা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। হাভানার মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপে জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সরঞ্জাম পাওয়া তীব্রভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করলে কিউবা তার প্রধান জ্বালানি উৎস হারায়। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেঙ্েিকা থেকেও তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কিউবা সরকারের এই দাবির বিপরীতে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, শুধু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং জ্বালানি খাতে সরকারের কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবই আজকের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিউবার পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়া, রান্না করা এবং দৈনন্দিন সাধারণ কাজ সম্পন্ন করাও সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd