ভারত থেকে অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সরকার কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ে একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আগামী সোমবার (৮ জুন) থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে অবৈধ পুশইনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একবার বাংলাদেশে এবং পরবর্তীবার ভারতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এবারের বৈঠক ভারতের পালা হওয়ায় নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সমস্ত অবৈধ পুশইনের চেষ্টাকে বাধা দেবো। তবে এ ধরনের সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।”
মন্ত্রী জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকবে। আলোচনার পর বিভিন্ন বিষয়ে একটি যৌথ সারসংক্ষেপ ও স্বাক্ষর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কারণে সীমান্ত ইস্যুগুলোকে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
একই সংবাদ সম্মেলনে পল্লবীর আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। এ ধরনের দায়িত্বশীল কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে।
তিনি বলেন, “পুলিশের ভালো কাজের যেমন মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি কোনো গাফিলতি বা অন্যায়ের জন্য তিরস্কার ও বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থাও বহাল থাকবে।”
রামিসা হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের বিষয়ে তিনি জানান, ডেথ রেফারেন্স শুনানির বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত এগিয়ে নিতে সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বছরে দুই দফা বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একবার বাংলাদেশ এবং পরবর্তীবার ভারতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দুই দেশের স্থল ও নদী সীমান্ত মিলিয়ে মোট সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার।