Dhaka ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৭৭ Time View

বাংলাদেশের মিঠাপানির জলাশয়ে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ছোট মাছের সংখ্যা ১৪৩ প্রজাতি। জনসংখ্যার বৃদ্ধি, জলাশয়ের সংকোচন, অতিরিক্ত আহরণসহ বিভিন্ন কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ৬৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায় হয়ে উঠেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, মৎস্য গবেষণার উদ্যোগ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর বিজ্ঞানীরা হারিয়ে যাওয়া মাছগুলোকে পুনরায় জীবন্ত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তারা ৪০ প্রজাতির মাছের সফল প্রজনন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছের পোনা সারাদেশের হ্যাচারিতে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে এই মাছগুলো চাষাবাদের আওতায় এসেছে এবং বাজারে এসব মাছের দামও হ্রাস পেয়েছে। বিএফআরআই সূত্রে জানা যায়, পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, কৈ, মাগুর, শিং, গুজি আইড়, দেশি সরপুঁটি, জাতপুঁটি, বাটা, বালাচাটা, কুচিয়া, কুর্শা, খলিশা, ভেদা, গুতুম, ঢেলা, গজার, ফলি, চিতল, গনিয়া, মহাশোল, বৈরালি, ভাগনা, আঙ্গুস, বাতাসি, পুঁইয়া, কাকিলা, পিয়ালী ও রাণীসহ ৪০ প্রজাতির মাছের সফল প্রজনন সম্পন্ন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে হ্যাচারিতে শিং, মাগুর, কৈ, ট্যাংরা, পাবদা, গুলশা, বৈরালিসহ ১২ প্রজাতির মাছ ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। জানা যায়, ২০২২ সালে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শাল বাইম মাছের কিছু পোনা উৎপাদনে সফলতা পান। এখনো গবেষণা চলছে এবং প্রচুর পরিমাণে পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে সারাদেশের হ্যাচারিগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশীয় ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ রয়েছে, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলো খাবার টেবিলে ফেরাতে দেশের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুর থেকে ৮৮ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো বিএফআরআইয়ে অবস্থিত ‘লাইভ জিন ব্যাংক’-এ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে যেসব মাছের সফল কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন হয়েছে, সেসব মাছের বিপুল পরিমাণ পোনা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। এতে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। বর্তমানে সাপের মতো দীর্ঘাকার, নলাকার ও আশঁবিহীন শাল বাইমের বিপুল পোনা উৎপাদনে আলাদা সময় দিচ্ছে বিজ্ঞানীরা। কারণ এ মাছটিও ব্যাপক জনপ্রিয়। এদিকে বিএফআরআই এর লাইভ জিন ব্যাংকে দেশের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুর থেকে ৮৮ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যেসব মাছের সফল কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর পোনা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। বিএফআরআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, আগে শুধু ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহের স্বাদুপানি গবেষণা কেন্দ্র থেকে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা করা হতো। বর্তমানে ময়মনসিংহের স্বাদুপানি কেন্দ্র ছাড়াও বগুড়ার সান্তাহার, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও যশোর উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে বিলুপ্তপ্রায় সব মাছকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে গবেষণা করা হচ্ছে। জানা যায়, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছগুলো পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে বিএফআরআই এর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব দেশীয় মাছকে লাইভ জিন ব্যাংকে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাছের সংস্থান সুরক্ষিত করা হবে।

Tag :
About Author Information

৪০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা

Update Time : ১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশের মিঠাপানির জলাশয়ে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ছোট মাছের সংখ্যা ১৪৩ প্রজাতি। জনসংখ্যার বৃদ্ধি, জলাশয়ের সংকোচন, অতিরিক্ত আহরণসহ বিভিন্ন কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ৬৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায় হয়ে উঠেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, মৎস্য গবেষণার উদ্যোগ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এর বিজ্ঞানীরা হারিয়ে যাওয়া মাছগুলোকে পুনরায় জীবন্ত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তারা ৪০ প্রজাতির মাছের সফল প্রজনন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছের পোনা সারাদেশের হ্যাচারিতে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে এই মাছগুলো চাষাবাদের আওতায় এসেছে এবং বাজারে এসব মাছের দামও হ্রাস পেয়েছে। বিএফআরআই সূত্রে জানা যায়, পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, কৈ, মাগুর, শিং, গুজি আইড়, দেশি সরপুঁটি, জাতপুঁটি, বাটা, বালাচাটা, কুচিয়া, কুর্শা, খলিশা, ভেদা, গুতুম, ঢেলা, গজার, ফলি, চিতল, গনিয়া, মহাশোল, বৈরালি, ভাগনা, আঙ্গুস, বাতাসি, পুঁইয়া, কাকিলা, পিয়ালী ও রাণীসহ ৪০ প্রজাতির মাছের সফল প্রজনন সম্পন্ন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে হ্যাচারিতে শিং, মাগুর, কৈ, ট্যাংরা, পাবদা, গুলশা, বৈরালিসহ ১২ প্রজাতির মাছ ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। জানা যায়, ২০২২ সালে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শাল বাইম মাছের কিছু পোনা উৎপাদনে সফলতা পান। এখনো গবেষণা চলছে এবং প্রচুর পরিমাণে পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে সারাদেশের হ্যাচারিগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশীয় ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ রয়েছে, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বিলুপ্তপ্রায় মাছগুলো খাবার টেবিলে ফেরাতে দেশের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুর থেকে ৮৮ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো বিএফআরআইয়ে অবস্থিত ‘লাইভ জিন ব্যাংক’-এ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরমধ্যে যেসব মাছের সফল কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন হয়েছে, সেসব মাছের বিপুল পরিমাণ পোনা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। এতে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। বর্তমানে সাপের মতো দীর্ঘাকার, নলাকার ও আশঁবিহীন শাল বাইমের বিপুল পোনা উৎপাদনে আলাদা সময় দিচ্ছে বিজ্ঞানীরা। কারণ এ মাছটিও ব্যাপক জনপ্রিয়। এদিকে বিএফআরআই এর লাইভ জিন ব্যাংকে দেশের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুর থেকে ৮৮ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যেসব মাছের সফল কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর পোনা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। বিএফআরআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, আগে শুধু ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহের স্বাদুপানি গবেষণা কেন্দ্র থেকে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা করা হতো। বর্তমানে ময়মনসিংহের স্বাদুপানি কেন্দ্র ছাড়াও বগুড়ার সান্তাহার, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও যশোর উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে বিলুপ্তপ্রায় সব মাছকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে গবেষণা করা হচ্ছে। জানা যায়, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছগুলো পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে বিএফআরআই এর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব দেশীয় মাছকে লাইভ জিন ব্যাংকে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাছের সংস্থান সুরক্ষিত করা হবে।