Dhaka ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার আফগানিস্তানকে বয়কটের আহবান প্রোটিয়া ক্রীড়ামন্ত্রীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৬৮ Time View

কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বয়কটের আহবান জানিয়েছিলেন ১৬০ জন ব্রিটিশ রাজনীতিক। এবার তাদের অনুসরণে নারী ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে রাখা আফগানিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গাইটন ম্যাকেঞ্জি। ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, নারী ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে শুধু পুরুষ ক্রিকেট দলকে আইসিসি ইভেন্টে খেলতে দেওয়া ভন্ডামি ও অনৈতিক। এটা সবার জানা যে, ২০২১ সালে পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নারী ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে রাখে তালেবান। আফগান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নারীদের প্রতি বৈষম্য বলে অভিযোগ করে আসছিল বেশ কিছু দেশ। তারই ধারাবাহিকতায় ম্যাকেঞ্জির এই মন্তব্য। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি ম্যাকেঞ্জি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যদি এটা আমার সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে অবশ্যই তা (আফগানিস্তানের খেলা) ঘটতো না। আজ যখন বিশ্বের সব জায়গায় নারীদের প্রতি একই আচরণ (সমান অধিকার দেওয়া) করা হচ্ছে সেখানে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ভন্ডামি ও অনৈতিক হবে।’ ম্যাকেঞ্জি নিজের অবস্থান জানিয়েছেন মূলত ব্রিটিশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী প্যাটার হেইনের পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে (সিএসএ) পাঠানো প্যাটারের সেই চিঠিতে নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ জানাতে বলা হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এতে অবশ্য সাড়া দেয়নি সিএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডও অবস্থান নিয়েছে ইসিবির মতোই। এর আগে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের আহŸানে ইসিবি জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি আছে। আলাদা আলাদা কোনো ক্রিকেট বোর্ডের কথা এখানে কার্যকরী হবে না। বরং আইসিসির বার্তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এদিকে আইসিসির এক মুখপাত্র ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফোকে বলেছেন, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি) তার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নীতির জন্য দায়ী করা যাবে না। আইসিসির ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আইসিসি তাদের (আফগানিস্তান) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আইন মেনে চলার জন্য এসিবি বা খেলোয়াড়দের শাস্তি দেবে না। আমরা এসিবিকে ক্রিকেটের উন্নয়নে এবং পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য খেলার সুযোগে সহায়তা করার জন্য গঠনমূলকভাবে আমাদের প্রভাব ব্যবহার করতে থাকবো।’ আগামী ১৯ ফেব্রæয়ারি শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর। ৮ দলের অংশগ্রহণে হতে যাওয়া মিনি বিশ্বকাপ হিসেবে খ্যাত এ টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করবে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বি-গ্রæপে আফগানিস্তানের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১ ফেব্রæয়ারি করাচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানদের খেলা ২৬ ফেব্রæয়ারি লাহোরে।

Tag :
About Author Information

এবার আফগানিস্তানকে বয়কটের আহবান প্রোটিয়া ক্রীড়ামন্ত্রীর

Update Time : ০৭:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বয়কটের আহবান জানিয়েছিলেন ১৬০ জন ব্রিটিশ রাজনীতিক। এবার তাদের অনুসরণে নারী ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে রাখা আফগানিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গাইটন ম্যাকেঞ্জি। ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, নারী ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে শুধু পুরুষ ক্রিকেট দলকে আইসিসি ইভেন্টে খেলতে দেওয়া ভন্ডামি ও অনৈতিক। এটা সবার জানা যে, ২০২১ সালে পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নারী ক্রিকেটকে নিষিদ্ধ করে রাখে তালেবান। আফগান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নারীদের প্রতি বৈষম্য বলে অভিযোগ করে আসছিল বেশ কিছু দেশ। তারই ধারাবাহিকতায় ম্যাকেঞ্জির এই মন্তব্য। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি ম্যাকেঞ্জি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যদি এটা আমার সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে অবশ্যই তা (আফগানিস্তানের খেলা) ঘটতো না। আজ যখন বিশ্বের সব জায়গায় নারীদের প্রতি একই আচরণ (সমান অধিকার দেওয়া) করা হচ্ছে সেখানে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ভন্ডামি ও অনৈতিক হবে।’ ম্যাকেঞ্জি নিজের অবস্থান জানিয়েছেন মূলত ব্রিটিশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী প্যাটার হেইনের পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে (সিএসএ) পাঠানো প্যাটারের সেই চিঠিতে নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ জানাতে বলা হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এতে অবশ্য সাড়া দেয়নি সিএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডও অবস্থান নিয়েছে ইসিবির মতোই। এর আগে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের আহŸানে ইসিবি জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি আছে। আলাদা আলাদা কোনো ক্রিকেট বোর্ডের কথা এখানে কার্যকরী হবে না। বরং আইসিসির বার্তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এদিকে আইসিসির এক মুখপাত্র ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফোকে বলেছেন, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি) তার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নীতির জন্য দায়ী করা যাবে না। আইসিসির ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আইসিসি তাদের (আফগানিস্তান) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আইন মেনে চলার জন্য এসিবি বা খেলোয়াড়দের শাস্তি দেবে না। আমরা এসিবিকে ক্রিকেটের উন্নয়নে এবং পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য খেলার সুযোগে সহায়তা করার জন্য গঠনমূলকভাবে আমাদের প্রভাব ব্যবহার করতে থাকবো।’ আগামী ১৯ ফেব্রæয়ারি শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর। ৮ দলের অংশগ্রহণে হতে যাওয়া মিনি বিশ্বকাপ হিসেবে খ্যাত এ টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করবে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বি-গ্রæপে আফগানিস্তানের সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১ ফেব্রæয়ারি করাচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানদের খেলা ২৬ ফেব্রæয়ারি লাহোরে।