Dhaka ১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে কাজ করবে দুদক: মহাপরিচালক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৮০ Time View

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কোন দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক আকতার হোসাইন। গত মঙ্গলবার একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এফএনএস প্রতিবেদককে বলেন, নতুন কমিশন নিরপেক্ষ ও নির্মোহতার ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, “বতর্মান কমিশন অতীতের কোনো কমর্কাণ্ড দেখার বিষয়ে উদ্বিগ্ন নয়; আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা।”

তিনি পক্ষপাতিত্বের বিষয়েও বলেন, “আমরা অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে ভাবছি না। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বতর্মান সময়ের প্রেক্ষাপটে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত কয়েক বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। বতর্মান কমিশন নতুনভাবে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। জনমত জরিপে উঠে এসেছে, জনগণ চাইছে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হোক এবং বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কারও ওপর অন্যায় না করা হয়।

গত ১০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আবদুর রশিদ সই করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন, “দুদক এক দন্তহীন বাঘ।” তিনি বলেছিলেন, তার চার বছরে কমিশন তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি এবং তার সময়ে কিছু সফলতা হলেও বিস্তৃত পরিসরে তিনি নিজেকে সফল মনে করেননি।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বতর্মান কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। দুদক যদি স্বাধীনভাবে কাজ না করতে পারে, তবে এর অস্তিত্বের গুরুত্ব কমে যাবে।

২০০৭-২০০৮ সালের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, যখন লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী নেতৃত্বে দুদক প্রবল গতিশীলতা অর্জন করেছিল, সেই সময়টিকেও উল্লেখ করা হয়। তার নেতৃত্বে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে এটি শুধুমাত্র ‘দন্তহীন বাঘ’ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা হারাবে।

Tag :
About Author Information

নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে কাজ করবে দুদক: মহাপরিচালক

Update Time : ১০:৪৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কোন দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক আকতার হোসাইন। গত মঙ্গলবার একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এফএনএস প্রতিবেদককে বলেন, নতুন কমিশন নিরপেক্ষ ও নির্মোহতার ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, “বতর্মান কমিশন অতীতের কোনো কমর্কাণ্ড দেখার বিষয়ে উদ্বিগ্ন নয়; আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা।”

তিনি পক্ষপাতিত্বের বিষয়েও বলেন, “আমরা অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে ভাবছি না। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বতর্মান সময়ের প্রেক্ষাপটে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত কয়েক বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। বতর্মান কমিশন নতুনভাবে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। জনমত জরিপে উঠে এসেছে, জনগণ চাইছে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হোক এবং বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কারও ওপর অন্যায় না করা হয়।

গত ১০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আবদুর রশিদ সই করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন, “দুদক এক দন্তহীন বাঘ।” তিনি বলেছিলেন, তার চার বছরে কমিশন তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি এবং তার সময়ে কিছু সফলতা হলেও বিস্তৃত পরিসরে তিনি নিজেকে সফল মনে করেননি।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বতর্মান কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। দুদক যদি স্বাধীনভাবে কাজ না করতে পারে, তবে এর অস্তিত্বের গুরুত্ব কমে যাবে।

২০০৭-২০০৮ সালের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, যখন লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী নেতৃত্বে দুদক প্রবল গতিশীলতা অর্জন করেছিল, সেই সময়টিকেও উল্লেখ করা হয়। তার নেতৃত্বে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে এটি শুধুমাত্র ‘দন্তহীন বাঘ’ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা হারাবে।