Dhaka ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিটিবি সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে চাচ্ছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৯৯ Time View

বিনামূল্যেল পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিতে এবার কঠোর অবস্থানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ওই লক্ষ্যে এনসিটিবি এবার মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যবইয়ের মান সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাতে চায়। সেক্ষেত্রে বুয়েট কিংবা বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মান যাচাইয়ের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিনামূল্যের পাঠ্য বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য প্রতি বছর ছাপার আগে ও পরে তদারকির জন্য দুটি ভাগে পিডিআই ও পিএলআই এজেন্ট ইন্সপেকশন নিয়োগ দিতে হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিনমূল্যের পাঠ্যবইয়ের ইন্সপেকশন এজেন্ট হিসেবে টানা গত ১২ বছর ধরে কাজ করে আসছে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ছাপার আগে ও পরে তদারকির জন্য দুটি ভাগে পিডিআই ও পিএলআই এজেন্ট ইন্সপেকশন হিসেবে তারা কাজ করে আসছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নি¤œমানের পাঠ্যবইকে ভালো মান সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবার তাদের দিয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সূত্র জানায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে বিগত ২০১০ সাল থেকে পাঠ্যবই মুদ্রণের তদারকির কাজ করানো হচ্ছে। মাধ্যমিকের ২৮ কোটি বই ছাপানোর জন্য কমপক্ষে ১ লাখ টন কাগজ, কালি, আর্ট পেপার তদারকি করতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৫০টির বেশি প্রেসে ২৪ ঘণ্টা একজন করে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার মতো জনবল, মেশিনারিজ, ল্যাবসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই। আর বেসরকারি তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরের চেয়ে এবার ৩০-৪০ শতাংশ কমে দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ অবস্থায় তদারকির কাজটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো যায় কি না তা বিবেচনায় আনা হয়েছে। তবে ওই সরকারি প্রতিষ্ঠানের ল্যাব ও অভিজ্ঞতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি মিললেই কাজ দেয়া হবে। তা না হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এনসিটিবি। সূত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্রের অনুমোদন ইতিমধ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি দিয়েছে। এখনো নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। তবে স্বল্পসময়ের মধ্যেই বই ছাপার শুরু হচ্ছে। কিন্তু বই ছাপানোর আগে ইন্সপেকশন এজেন্ট নিয়োগ দিতে হয়। বই মুদ্রণের জন্য প্রেসের মালিকদের সঙ্গে চুক্তিপত্র করার সময় ইন্সপেকশন কোম্পানির নাম উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু তা না থাকায় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারছে না এনসিটিবি। কারণ ইন্সপেকশন কোম্পানি মোট চার স্তরে তদারকি করে। এর মধ্যে বই ছাপার আগে তিন স্তর এবং পরে এক স্তর। এমনকি গভীর রাতে নি¤œমানের বই ছাপানো ঠেকাতে প্রত্যেকটি ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টার জন্য তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়। তারা প্রথমে প্রেসে কাগজের মান (স্থায়িত্ব ও জিএসএম) ঠিক আছে কি না তা দেখে ছাড়পত্র দিলেই বই ছাপা হয়। ছাপা হওয়া পর মান যাচাই করে ফের ডেলিভারি জন্য ছাড়পত্র দেয়া হয়। এই স্তরকে (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) পিডিআই বলে। আর বই পৌঁছার পর প্রত্যেক উপজেলা থেকে বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মান যাচাই করতে (পোস্ট ল্যান্ডিং ইন্সপেকশন) পিএলআই এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়।

Tag :
About Author Information

এনসিটিবি সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে চাচ্ছে

Update Time : ১২:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪

বিনামূল্যেল পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিতে এবার কঠোর অবস্থানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ওই লক্ষ্যে এনসিটিবি এবার মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যবইয়ের মান সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাতে চায়। সেক্ষেত্রে বুয়েট কিংবা বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মান যাচাইয়ের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিনামূল্যের পাঠ্য বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য প্রতি বছর ছাপার আগে ও পরে তদারকির জন্য দুটি ভাগে পিডিআই ও পিএলআই এজেন্ট ইন্সপেকশন নিয়োগ দিতে হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিনমূল্যের পাঠ্যবইয়ের ইন্সপেকশন এজেন্ট হিসেবে টানা গত ১২ বছর ধরে কাজ করে আসছে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ছাপার আগে ও পরে তদারকির জন্য দুটি ভাগে পিডিআই ও পিএলআই এজেন্ট ইন্সপেকশন হিসেবে তারা কাজ করে আসছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নি¤œমানের পাঠ্যবইকে ভালো মান সার্টিফিকেট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবার তাদের দিয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সূত্র জানায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে বিগত ২০১০ সাল থেকে পাঠ্যবই মুদ্রণের তদারকির কাজ করানো হচ্ছে। মাধ্যমিকের ২৮ কোটি বই ছাপানোর জন্য কমপক্ষে ১ লাখ টন কাগজ, কালি, আর্ট পেপার তদারকি করতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৫০টির বেশি প্রেসে ২৪ ঘণ্টা একজন করে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার মতো জনবল, মেশিনারিজ, ল্যাবসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই। আর বেসরকারি তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরের চেয়ে এবার ৩০-৪০ শতাংশ কমে দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ অবস্থায় তদারকির কাজটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো যায় কি না তা বিবেচনায় আনা হয়েছে। তবে ওই সরকারি প্রতিষ্ঠানের ল্যাব ও অভিজ্ঞতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি মিললেই কাজ দেয়া হবে। তা না হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এনসিটিবি। সূত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্রের অনুমোদন ইতিমধ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি দিয়েছে। এখনো নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। তবে স্বল্পসময়ের মধ্যেই বই ছাপার শুরু হচ্ছে। কিন্তু বই ছাপানোর আগে ইন্সপেকশন এজেন্ট নিয়োগ দিতে হয়। বই মুদ্রণের জন্য প্রেসের মালিকদের সঙ্গে চুক্তিপত্র করার সময় ইন্সপেকশন কোম্পানির নাম উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু তা না থাকায় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারছে না এনসিটিবি। কারণ ইন্সপেকশন কোম্পানি মোট চার স্তরে তদারকি করে। এর মধ্যে বই ছাপার আগে তিন স্তর এবং পরে এক স্তর। এমনকি গভীর রাতে নি¤œমানের বই ছাপানো ঠেকাতে প্রত্যেকটি ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টার জন্য তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়। তারা প্রথমে প্রেসে কাগজের মান (স্থায়িত্ব ও জিএসএম) ঠিক আছে কি না তা দেখে ছাড়পত্র দিলেই বই ছাপা হয়। ছাপা হওয়া পর মান যাচাই করে ফের ডেলিভারি জন্য ছাড়পত্র দেয়া হয়। এই স্তরকে (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) পিডিআই বলে। আর বই পৌঁছার পর প্রত্যেক উপজেলা থেকে বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মান যাচাই করতে (পোস্ট ল্যান্ডিং ইন্সপেকশন) পিএলআই এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়।