1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

‎টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত সাগরবেষ্টিত কুতুবদিয়া, ভাটার সময়ও পানি না নামায় বাড়ছে উদ্বেগ; পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

‎নজরুল ইসলাম, ‎নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার): ‎টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের সাগরবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে ভাটার সময়ও অনেক এলাকায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়া। এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে ডুবে উপজেলার বড়ঘোপ এলাকায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


‎স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং খাল-নালার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জমে থাকা পানি বের হতে পারছে না। সাধারণত ভাটার সময় এসব এলাকার পানি সাগরে নেমে গেলেও এবার অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।

‎সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন কাঁচা ও আংশিক পাকা গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

‎জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি খাতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় আমন ধানের বীজতলা ও মৌসুমি সবজির ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে পুকুর ও মৎস্যঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা। একাধিক কৃষক ও মৎস্যচাষির দাবি, কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমি, মাছের পুকুর ও ঘেরে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাগরে ভাটার সময়ও যদি পানি নিষ্কাশন না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎এদিকে বিরূপ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় এবং আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন নাগরিকরা সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

‎পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

‎উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফরহাদ মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইকবাল হাসান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার হিসেবে  চিড়া,মুরি, বিস্কুট, কেক ও চিনি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd