1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

হাদি হত্যার তিন আসামিকে ফেরানো নিয়ে ফের তোড়জোড়

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান Mamata Banerjee-এর এক বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসার পর Sharif Usman Bin Hadi হত্যাকাণ্ড নিয়েও ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড। সংগঠনটির দাবি, দেশীয় চক্রের সহায়তায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন অভিযোগ তারা শুরু থেকেই করে আসছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করে, মমতার সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যার পরিচয় প্রকাশ পেলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তারা আরও দাবি করে, হাদিকে শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে হত্যা করা হয়নি; বরং এর পেছনে আন্তর্জাতিক মাত্রার কোনো সংযোগ থাকতে পারে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। সংগঠনটির মতে, ঘটনার পর সীমান্ত সিল করার সুযোগ থাকলেও তা না হওয়া রহস্যজনক।

হাদি হত্যার মামলাটি শুরুতে পল্টন থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে। পরে এটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-তে হস্তান্তর করা হয়।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিযুক্তরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে এবং পরে সেখানে গ্রেপ্তার হয়। বর্তমানে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে দেশে ফেরানো গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উন্মোচন সম্ভব হবে।

হাদি হত্যাকাণ্ডে করা মামলায় প্রথমে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। এ মামলায় ডিবি ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে বলা হয় ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামি হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, আলমগীর হোসেন, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ, জেসমিন আক্তার, হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম, সাহেদা পারভীন সামিয়া, ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, মারিয়া আক্তার লিমা, কবির, নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু এবং ফয়সাল।

পরবর্তীতে বাদীপক্ষ চার্জশিটে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠায়। বর্তমানে চার্জশিটের ১১ জন কারাগারে এবং ৬ জন পলাতক রয়েছে।

তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও পূর্ববিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তদন্তে বলা হয়, মোটরসাইকেলে এসে হাদিকে গুলি করা হয় এবং মূল শ্যুটার ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ, সঙ্গে ছিলেন আলমগীর হোসেন। পলাতক অবস্থায় তাদের পালাতে সহায়তা করেন একাধিক ব্যক্তি, যাদের মধ্যে পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক কর্মী ও ঘনিষ্ঠরা রয়েছেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, নতুন করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে মূল দুই আসামি দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে তদন্ত আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

ভারতের সঙ্গে ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আসামি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়সহ বিভিন্ন আইনি জটিলতা বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে আমলে নেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে সিআইডি জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের প্রাসঙ্গিকতার ওপর নির্ভর করবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন তথ্য যুক্ত করা হবে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং আসামিদের ফেরাতে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি হাদি হত্যার বিচার, আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের চক্রান্ত উদঘাটনের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উদঘাটন না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd