বিদেশ : আফগানিস্তানে তালেবানের আফিম চাষ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈধ ফসল চাষ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়া এবং পরিবারের খাবার জোগাতে হিমশিম খাওয়ায় আবারও পোস্ত চাষে ফিরছেন দেশটির কিছু কৃষক। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর আফগানিস্তানে পোস্ত চাষের জমির পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়ে আনুমানিক ৪৩ হাজার ৩০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। তবে ২০২১ সালে দেশটিতে ১ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে পোস্ত চাষ হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান চাষের পরিমাণ এখনো অনেক কম। বালখ প্রদেশের কৃষক মোহাম্মদ দাউদ জানান, একসময় পোস্ত চাষের আয় দিয়ে সারা বছর পরিবারের খরচ চলত। এখন গম ও তুলা চাষ করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, আগে তাদের জীবন ভালো ছিল, কিন্তু এখন তার সন্তানরা অপুষ্টিতে ভুগছে। তালেবান ২০২২ সালে আফিম চাষের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এর আগে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ আফিম আফগানিস্তানে উৎপাদিত হতো। এই আফিম থেকে মরফিনের মতো ওষুধের উপাদান তৈরির পাশাপাশি অবৈধ মাদক হেরোইনও উৎপাদিত হয়। ইউএনওডিসির হিসাবে, চলতি বছর আফগানিস্তানে আফিম বিক্রি থেকে আনুমানিক ৫২৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। ২০২২ সালের ব্যতিক্রম বাদ দিলে ২০১৮ সালের পর এটি সর্বোচ্চ আয়। তবে তালেবান জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, প্রকৃত চাষের পরিমাণ সংস্থাটির হিসাবের প্রায় অর্ধেক। এদিকে খরা, সেচের পানির সংকট এবং গম ও তুলার দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের দুর্দশা বাড়ছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, চলতি বছর আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১০টিতে শিশুদের অপুষ্টির পরিস্থিতি সংকটজনক। ২০২৭ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ১৪ হতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আফিম চাষ আবার ব্যাপকভাবে বাড়লে ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক অবৈধ মাদকের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স