দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে বিভিন্ন গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সমাজকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এসব কর্মকাণ্ড সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করছে, তবে কিছু গণমাধ্যম মালিকের আচরণ সাংবাদিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “দুর্ভাগ্য বাংলাদেশে আমরা সবসময় সহজভাবে সবকিছু পাই না। আবার বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা নানাভাবে সমস্যা তৈরি করছে, অনেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, “সোশাল মিডিয়ায় যেসব প্রচার-প্রচারণা ও অপপ্রচার চলছে, সেগুলো মিলিয়ে সমাজকে অন্য পথে পরিচালিত করার একটি সচেতন চেষ্টা আছে। আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টাকে প্রতিরোধ করতে পারলে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”
সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন বাস্তবতায় পৌঁছেছে এবং এখন অন্তত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, বর্তমান সরকার এ স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও কিছু গণমাধ্যম মালিক অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন করছেন।
তিনি বলেন, “সরকার কাজ করছে। কিন্তু অন্যদিকে বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের মালিকরা অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে।”
আলোচনা সভায় বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা মতের ভিত্তিতে বিভাজনের জায়গা নেই।
“আমি সকলকে সমান অধিকার দেওয়ার পক্ষপাতী। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক দল। এ কারণেই আমরা মনে করি, বিএনপি দেশের সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল, যেখানে সাংবাদিকসহ সব পেশার মানুষ নিরাপদ থাকতে পারেন,” বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি। অতীতেও যায়নি, সাম্প্রতিক সময়েও যায়নি।”
সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি ঐতিহ্যবাহী দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যমগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে সাংবাদিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।