মহাকাশ সংস্থাগুলোর কেউ এখনও যা করতে পারেনি, তেমন এক চেষ্টার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান। মঙ্গলের একটি চাঁদে নেমে অন্তত ১০ গ্রাম পৃষ্ঠতলের উপাদান (মাটি) সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য। মহাকাশযানটির নাম এমএম এক্স । এর গন্তব্য ফোবোস, যা আলুর মতো এবড়োথেবড়ো আকৃতির এবং ৩০ কিলোমিটারেরও কম দীর্ঘ। কোনও গ্রহকে ঘিরে ঘোরা জানা চাঁদগুলোর মধ্যে ফোবোস তার গ্রহের সবচেয়ে কাছ দিয়ে ঘোরে। সফল হলে পৃথিবীর গবেষণাগারে মঙ্গল থেকে নেওয়া প্রথম বাস্তব নমুনা থাকবে। মঙ্গলের দুটি চাঁদ ফোবোস ও তুলনামূলক ছোট ডেইমোসের উৎপত্তি এখনও অজানা। এগুলো মঙ্গলের মহাকর্ষে আটকা পড়া গ্রহাণু হতে পারে, কিংবা বিশাল কোনও বস্তুর আঘাতে গ্রহ থেকে ছিটকে কক্ষপথে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ হতে পারে। প্রতিটি ব্যাখ্যা সৌরজগতের শুরুর ইতিহাসের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। শুধু নমুনার গবেষণাগার বিশ্লেষণই এ প্রশ্নের সমাধান দিতে পারে। দুটি গ্রহাণু থেকে কণা ফিরিয়ে আনা হায়াবুসা মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া জাপান এয়ারোস্পেস এঙ্প্লোরেশন এজেন্সি (জাঙ্া) এ প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছে। অংশীদার হিসেবে আছে নাসা, ফ্রান্সের সিএনইএস, জার্মানির ডিএলআর এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ)। জাঙ্ার বর্ণনায়, জাপানের নেতৃত্বে পরিচালিত এটি সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক গ্রহ অনুসন্ধান মিশন।
জাঙ্ার এক বিবৃতিতে এমএমএঙ্রে প্রকল্প ব্যবস্থাপক কাওয়াকাতসু ইয়াসুহিরো বলেন, মঙ্গলের চাঁদ ফোবোস মানবজাতির জন্য এখনও এক আবিষ্কার করা যায়নি। তার ভাষ্য, নমুনা ফিরিয়ে আনা গেলে চাঁদ দুটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, মঙ্গল অঞ্চল কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে এবং পার্থিব গ্রহগুলোতে পানি ও জৈব উপাদানের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা মিলতে পারে। এমএমএঙ্ মহাকাশযান প্রায় ৯ মিটার দীর্ঘ এবং এর তিনটি স্তূপীকৃত মডিউল রয়েছে। এর একটি মঙ্গলের কক্ষপথে ঢোকার গতি কমানোর জন্য প্রপালশন মডিউল, আরেকটি অবতরণ পা ও নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জামসহ এঙ্প্লোরেশন মডিউল, আর তৃতীয়টি নমুনা নিয়ে ফেরার রিটার্ন মডিউল। ইএসএর তথ্য অনুযায়ী, এতে ১১টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র রয়েছে, যার সাতটি মূল মহাকাশযানে এবং চারটি একটি ছোট রোভারে। ফোবোসের মহাকর্ষ পৃথিবীর হাজার ভাগের এক ভাগেরও কম হওয়ায় এমএমএঙ্ কোয়াসি-স্যাটেলাইট কক্ষপথ ব্যবহার করবে। যানটি কারিগরিভাবে মঙ্গলকে প্রদক্ষিণ করে, কিন্তু ফোবোসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে, ফলে মনে হয় যেন সেটি চাঁদটিকে ঘিরেই ঘুরছে। সেখান থেকে টেঙ্গো টেলিস্কোপিক ক্যামেরা প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার প্রস্থের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারবে। ওরোচি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা, লেজার অল্টিমিটার, ফরাসি ইনফ্রারেড স্পেকট্রোমিটার এমআইআরএস এবং নাসার মেগানে গামা-রশ্মি ও নিউট্রন যন্ত্র ভূখণ্ড, খনিজ ও রাসায়নিক মৌলের মানচিত্র তৈরি করবে। মূল মহাকাশযান অবতরণের চেষ্টার আগে ইডেফিঙ্ নামের একটি রোভার নামাবে, যার ওজন ২৫ কিলোগ্রাম এবং যা সিএনইএস ও ডিএলআর তৈরি করেছে। এটি পৃষ্ঠতল থেকে ৪০ থেকে ১০০ মিটার উচ্চতা থেকে নামবে, সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং প্রায় ১০০ দিন কাজ করবে। ফোবোসে এর ওজন হবে পৃথিবীতে প্রায় ১৫ গ্রামের সমান। সূত্র: উইয়ন নিউজ