1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপের চেয়ারম্যান ছোটনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
 
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার): ‎কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম. শহীদ উদ্দীন ছোটনের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।কুতুবদিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার নবগঠিত পরিচালনা কমিটি নিয়ে দেওয়া ওই পোস্টের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা মন্তব্য। এরই মধ্যে কয়েকজন ছাত্রনেতা চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম হয়ে উঠেছে ফেসবুক।
‎
‎গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেওয়া ওই পোস্টে চেয়ারম্যান ছোটন বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের অতীতের নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের তালিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বড়ঘোপে শিক্ষানুরাগী তৈরি করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে অন্য এলাকা থেকে পিতা-পুত্রকে এনে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি বড়ঘোপবাসীর কাছে ক্ষমাও চান।
‎
‎চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য কাকে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় নেতাদের দাবি, বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও কুতুবদিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরীকে ইঙ্গিত করেছেন।
‎
‎তাঁদের দাবি, এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী কুতুবদিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং তাঁর ছেলে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার নবগঠিত পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি।
‎
‎চেয়ারম্যানের পোস্টের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন একাধিক  নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা বাবর চেয়ারম্যান ছোটনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘কোর্ট চেয়ারম্যানের ইন্টারের পরে সার্টিফিকেট আছে কিনা জনমনে সন্দেহ।’ জানা যায়, গত ১ বছর আগে হাইকোর্টের রায়ে বড়ঘোপ ইউপির দায়িত্ব নেন আ,ন,ম শহীদ উদ্দিন ছোটন।
‎
‎অন্যদিকে কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুকাররম কুতুবী লেখেন, ‘ইন্টার পাস করেছে কিনা সন্দেহ। তারও আবার বড় গলা! হেডেম থাকলে নিজে ওই পদে গিয়ে দেখান।’
‎
‎এদিকে চেয়ারম্যানের অনুসারীরাও তাঁর পক্ষে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন চেয়ারম্যানের কড়া সমালোচনা করে ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্যও করেছেন। ফলে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা এখন চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়া মডেল হাইস্কুল ও বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অতীতে এলাকার একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেছেন।
‎
‎দীর্ঘদিন ধরে বড়ঘোপ ফাজিল মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সীমিত থাকায় জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। সম্প্রতি শ্রেণিকক্ষ সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
‎
‎এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আলম বলেন, এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী নিজ উদ্যোগে কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মাদ্রাসার অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন।
‎
‎অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘আমি তাঁকে সভাপতি হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি রাজি হননি। পরে নীতিমালা অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে ইনজামামুল ইসলামকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে রেখেছি।’
‎
‎উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষোভ ও কষ্ট থেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বলে তাঁর ধারণা। বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও কুতুবদিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখেই চেয়ারম্যান এমন মন্তব্য করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
‎
‎জয়নাল আবেদীনের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা পরিষদের অর্থায়নে বড়ঘোপ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বহুতল ভবন নির্মাণে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৫০ লাখ টাকার কাজের টেন্ডার হয়েছে এবং বাকি ৫০ লাখ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পর্যায়ক্রমে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
‎
‎এ ছাড়া কুতুবদিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবনে চলাচলের রাস্তা নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা এবং নিচতলায় সম্মেলনকক্ষ নির্মাণে আরও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জয়নাল আবেদীন। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হওয়ার কথা।
‎
‎তিনি চেয়ারম্যান ছোটনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রভাব বিস্তারের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
‎
‎আবদুল আজিজসহ আরও অনেকই চেয়ারম্যান ছোটনের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিজের প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেয়ারম্যানের উল্লেখযোগ্য সহযোগিতার নজির নেই। অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন।
‎
‎সব মিলিয়ে, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বড়ঘোপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অবস্থান, এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিতর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে চেয়ারম্যান ছোটনের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd