1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

নেপালে সর্বশেষ বন্যার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বেঁচে যাওয়া মানুষ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বিদেশ : ঘন কাদায় অর্ধেক চাপা পড়া বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিলেন নেপালে আকস্মিক বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া অজয় গুরুং। মাত্র কয়েক মিনিটের বন্যায় তার সাজানো জীবন তছনছ হয়ে গেছে। এক সময় যে বুড়ি গণ্ডকী নদী তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করত, রোববার সেই নদীই নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় গোরখা জেলার ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যায়। পথে রেখে যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। নেপালের গোরখা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এ বন্যায় ২০০টি বাড়ি ও পাঁচটি সেতু ভেসে গেছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ ঘটনা এটি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগস্টে দেশটির উত্তরের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। নিখোঁজ হন ৫ সহস্রাধিক মানুষ। এ ঘটনা নেপালের অস্থিতিশীল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। ৩৩ বছর বয়সী গুরুং বলেন, নদীর পানি ফুলে-ফেঁপে ওঠায় তার দোকান ও গবাদিপশু ভেসে গেছে। নিজের চোখের সামনেই এসব হারিয়ে যেতে দেখেছেন তিনি। গুরুং এএফপিকে বলেন, ‘এখন সবকিছু শেষ। বসবাসের জন্য এখন আমাকে বিকল্প কোনো জায়গা খুঁজতে হবে।’ প্রায় দুই দশক ধরে ট্রেকিং গাইড হিসেবে কাজ করছেন গুরুং। তিনি বলেন, মানাসলু সার্কিট এলাকায় এত বেশি ভূমিধস আগে কখনো দেখেননি। এ পথে তিনি অসংখ্য পর্যটককে নিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে তুষারাবৃত পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলোর তীরে গড়ে ওঠা কোনো জনবসতিই টিকে থাকতে পারবে না।’ বুড়ি গণ্ডকী নদীর তীরবর্তী এলাকায় রোববারের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে কী উদ্ধার করা যায় তা কাদার মধ্যে তন্নতন্ন করে খুঁজছেন বাসিন্দারা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি। তবে অন্তত ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। লাল কুমারী থাপা বলেন, ‘আমার একটি কলার বাগান ছিল। সেটিও আর নেই। এখন আমাদের শুধু একটি ছোট কুঁড়েঘর অবশিষ্ট আছে। সেটি অবশ্য রক্ষা পেয়েছে।’ তিনি বলেন, অন্যদের ক্ষতি আরও বেশি হয়েছে। কারও কারও ঘরের চালের একটি টুকরাও অবশিষ্ট নেই। বুড়ি গণ্ডকীর পানি তাদের ঘরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। তাদের পরার মতো কাপড়ও নেই।
ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ-
নেপালের দুর্গম ও বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বারবার এ ধরনের দুর্যোগের ঘটনায় হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলোর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব এলাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বুড়ি গণ্ডকীর বন্যার মাত্র দুই মাসেরও কম সময় আগে রাসুয়া জেলায় বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকে ভয়াবহ পানির ঢল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ওই দুর্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। গত মাসে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, সর্বশেষ বন্যাটিও পাথর ও বরফের ধসের কারণে ঘটেছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, ‘এ বছর একের পর এক দুর্যোগ ঘটেছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের ঘনঘন পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায়, পাহাড়ি এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’ কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পাহাড়ি এলাকার পর্যবেক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদারের কাজ চলছে। তবে দিল কুমারী থাপা মাগারের মতো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে এখন আর এ বিপদ দূরের কোনো আশঙ্কা নয়। কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের মুঠোফোনের পর্দায় রাসুয়ার ভয়াবহ দুর্যোগের দৃশ্য দেখেছিলেন তিনি। এবার সেই দুর্যোগই এসে হাজির হয়েছে তাঁর দোরগোড়ায়। তিনি বলেন, ‘আমরা রাসুয়ার বন্যার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। জায়গাটি বেশ দূরে ছিল। কিন্তু বন্যার দৃশ্য দেখে আমরা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরাই বন্যার শিকার হয়েছি।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd