সম্প্রতি সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাব-রেজিস্ট্রার কিংবা প্রধান সহকারীসহ স্থায়ী পদে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত নেই। কার্যালয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছেন কেবল আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা কয়েকজন বহিরাগত কর্মী। এরপর রবিবার ১১ (অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় মূলপদে কর্মরত একজন কর্মচারী মাত্র উপস্থিত হয়েছেন। এসময় কুতুবদিয়া সাব রেজিস্ট্রার এর সরকারি নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। অফিসের প্রধান সহকারী শমরেশ দে’র সাথে মোবাইলে যোগাযোগ হলে তিনি আসার পথে বলে জানান।
সেখানে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীরা জানান, অফিসে সপ্তাহে মূলত দুই দিন—মঙ্গলবার ও বুধবার দলিল সম্পাদন করা হয়। বাকি দিনগুলোতে সাব-রেজিস্ট্রার প্রায়ই প্রশিক্ষণে অথবা ছুটিতে থাকেন বলে তারা দাবি করেন। যেসব দিনে দলিল রেজিস্ট্রি হয়, সেদিন গভীর রাত (প্রায় রাত ১০টা) পর্যন্ত কাজ চলে। তাই সাব রেজিস্ট্রার অফিসের টাইম ঠিক করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন এক কর্মচারী।
তবে স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করার মূল কারণ কাজের চাপ নয়, বরং অনৈতিক লেনদেন বা ‘পার্সেন্টেজ’ হিসাব মেলানো। অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের ওই দুই দিনে দলিল সম্পাদন শেষে নথিপত্রের বিপরীতে নেওয়া পার্সেন্টেজের টাকা দলিল লেখক ও তাদের সহকারীদের সাথে হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয় ছেড়ে চলে যান। এরপর পুরো সপ্তাহের জন্য অফিসের দেখভালের দায়িত্ব পড়ে বহিরাগত বা আউটসোর্সিং কর্মীদের ওপর।
এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, প্রতিটি সরকারি অফিসে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করতে হবে। কিন্তু এ কার্যালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কার্যালয়ে অনুপস্থিতি এবং ঘুস ও পার্সেন্টেজ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়ার সাথে সরাসরি এবং মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে জেলা সাবরেজিস্টার রেজাউল করিম বকসির হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে লিখিতভাবে জানাতে চাওয়া হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
ভোগান্তি নিরসন ও সরকারি কার্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলার ফেরাতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।