মোঃ নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট): বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে প্রায় ৬ বিঘা জমির আমন ধানের চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. সোহরাব চাপরাশি (৬২) ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0;
sv:16.2.13.2.W20;
module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: null;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 38;
গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার ১৫ নম্বর মোরেলগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিশারীঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগে উল্লেখ করা জমির বিভিন্ন অংশে আমন ধানের চারা উপড়ে ফেলা অবস্থায় রয়েছে। জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপড়ে ফেলা চারার পাশাপাশি বেশ কিছু অংশে ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ওই জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছিল।
অভিযোগকারী সোহরাব চাপরাশি জানান, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এসব জমি তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ২০২৩ সাল থেকে জমিগুলো নিয়ে বিরোধ চলে আসছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে সোহরাব চাপরাশি দাবি করেন, মঙ্গলবার সকালে মোঃজয়নাল হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন লোকজন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা আমন ধানের চারা উপড়ে ফেলেন। এতে তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চারা উপড়ে ফেলার সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন। পরে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে সাংবাদিকদের সোহরাব চাপরাশি বলেন, “জমিগুলো আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। প্রায় ৬ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। সেখানকার চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলতাফ খান বলেন, জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো ছিল এবং ঘটনার পর উপড়ে ফেলা চারা দেখা গেছে। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে অভিযোগে অভিযুক্ত ১ নম্বর বিবাদি মো. জয়নাল হাওলাদার ও তার বড় ছেলে মো. ফারুক হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাটির সঙ্গে তারা জড়িত নন।
মো. জয়নাল হাওলাদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ধানক্ষেতের চারা উপড়ে ফেলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাড়িতে বর্তমানে শুধু আমি ও আমার স্ত্রী অবস্থান করছি। পাঁচ ছেলের মধ্যে চারজনই বাড়ির বাইরে থাকে। আমি বয়স্ক মানুষ, শারীরিকভাবেও এ ধরনের কাজ করার সামর্থ্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যে জমির চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে, ওই জমিতে আমার কোনো অংশীদারিত্ব নেই। আমার ৩৭ শতক জমি মাঠে রয়েছে, সেখানে আমন ধানের চারা রোপণ করা আছে। তবে অভিযোগ করা জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।”
অভিযোগে উল্লেখ করা জমিগুলো মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাদুরতলা মৌজায় অবস্থিত বলে জানা গেছে। বিভিন্ন এসএ খতিয়ান ও দাগ নম্বরের জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সোহরাব চাপরাশি।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা, জমির প্রকৃত মালিকানা, ধানের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং দাবিকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগটি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।