বিদেশ : নেপালের হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসে দুজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আরো প্রায় ১০ থেকে ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত রোববার সকালে মানাং জেলার হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে নেপালি পর্বতারোহী ও সহকারী কর্মীদের একটি দল ক্যাম্প তৈরি ও দড়ি লাগানোর কাজ করছিল। সমপ্রতি ওই এলাকায় ভারি তুষারপাত হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ শুরু করতেও দেরি হয়। হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। হিমালয় হলিডেজ ট্রেকিংয়ের কর্মকর্তা বিভূতি চাঁদ ঠাকুর জানান, তাদের দলের অন্তত আটজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তবে মোট কতজন নিখোঁজ, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কাঠমাণ্ডু থেকে অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের নিয়ে একটি উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি পর্বতারোহীদের আসার আগেই নেপালি দলটিকে হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাজ ছিল ক্যাম্প তৈরি করা, পথ প্রস্তুত করা এবং পর্বতে দড়ি লাগানো। সামপ্রতিক দিনগুলোতে নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়েছে। এতে পর্বতারোহণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তুষারধসের আশঙ্কায় এই সপ্তাহের শুরুতে পর্বতারোহীদের বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বত মানাসলু থেকে নেমে আসতে হয়। এর আগে পাকিস্তানের ব্রড পিকে দুর্ঘটনায় ছয়জন পর্বতারোহী নিহত হওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নেপালে এই তুষারধসের ঘটনা ঘটল। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার দলের সদস্যরাও ছিলেন। এদিকে আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পরও উদ্ধারকাজ চলছে। ওই ঘটনায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। হিমবাহ ধসে ত্রিশূলী নদীতে হঠাৎ বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে গত সপ্তাহে এশিয়ার আরো কয়েকটি এলাকায় চরম আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশেও দুর্যোগে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।