1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

সাইবার আইন নিপীড়নমূলক না করার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতির প্রস্তাবসহ বিভিন্ন সুপারিশ খসড়া আইনে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিল তৈরি করা হয়েছিল। সেটি মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি ও আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, মূল লক্ষ্য হলো আইনটি যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয়।

খসড়া আইন নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি মতামত দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত সংগ্রহ করে সংকলন করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, সংবাদপত্রের সংগঠন ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়। এমন আইন করতে চান, যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষ সুরক্ষা পান। সবার আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে আইনটি আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে খসড়ায় একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এতে কোনো মামলা বা আপিল অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকার সুযোগ থাকবে না। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আরও পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে আলোচনায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে খসড়া আইনের কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, সাংবাদিকরা এই আইনের ভিকটিম হবেন না, তার নিশ্চয়তা কী।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, কোভিডের সময় তাকে ছয়বার আদালতে যেতে হয়েছিল। নতুন আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিচার ও গ্রেপ্তারের সুযোগ না রাখার দাবি জানান তিনি। এ ধরনের ধারা বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি সেটিকে ‘জঘন্য কালো আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, আইনের খসড়া দেখে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আইনটি এভাবে গ্রহণ করা হলে গণমাধ্যমের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনে মোবাইল কোর্টের বিষয়টি কীভাবে এসেছে, সেই প্রশ্নও তোলেন মাহফুজ আনাম। তিনি জানান, সবাই মিলে একটি ভালো প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংশোধনী ছাড়া সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস হলে বাংলাদেশ ‘বৃহৎ কারাগারে’ পরিণত হবে।

আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি প্রণয়ন না করার কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা আইনের প্রয়োগে সাংবাদিকদের হয়রানি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করার আগে অংশীজনদের আরও মতামত নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd