ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): স্কুলের সামনে কদবেল মাখানো বিক্রির দৃশ্যটি আমাদের শৈশবের এক চিরচেনা ও নস্টালজিক আমেজ ফিরিয়ে আনে। বিশেষ শরৎ ও হেমন্তকালে কদবেল পুরোপুরি পেকে ওঠে, তখন স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে কদবেল বিক্রেতাদের চারপাশে। মরিচ, কাসুন্দি আর লবণ দিয়ে মাখানো টক-ঝাল-মিষ্টি কদবেলের স্বাদ ছোট-বড় সবার কাছেই অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
স্কুলের সামনে কদবেল বিক্রি বাড়ার মূল কারণ হলো এটি অল্প খরচে শিক্ষার্থীদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়, মুখরোচক এবং জনপ্রিয় টক-ঝাল-মিষ্টি খাবার। বিশেষ করে টিফিনের সময় বা স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের ভিড় কদবেলের দোকানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
কদবেলের সাথে মরিচ গুঁড়ো, কাসুন্দি, লবণ এবং চিনি মিশিয়ে তৈরি চাটনি শিক্ষার্থীরা খুব পছন্দ করে। অল্প টাকা খরচ করেই শিক্ষার্থীরা এটি কিনতে পারে। স্কুলের গেটের সামনেই বিক্রেতারা ভ্যান বা টোঙা নিয়ে বসেন, তাই সহজেই চোখে পড়ে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের সামনে কদবেল বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। স্কুলে ক্লাশ শুরুর আগেই কদবেলের পরসা সাজিয়ে বসে, স্কুল শুরু, টিফিন ও ছুটির পর বিক্রি বেশী হয়। কদবেল বিক্রি হচ্ছে প্রচুর, তেমনি রয়েছে ভিড়। ব্যবসায়ীরা জানান, আকার ও মানভেদে প্রতি পিস কদবেল ১০ থেকে ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও অনেকেই স্বাদের কারণে আগ্রহ নিয়ে কদবেল কিনছেন।
সব মিলিয়ে ভাদ্রের মৌসুমি ফল কদবেল এখন শুধু ফল নয়, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের কাছে হয়ে উঠেছে স্বাদ, ঐতিহ্য ও স্মৃতির এক আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ
অনেক সময় খোলা অবস্থায় কদবেল মাখানো হয়, যা থেকে ধুলোবালি ও মাছি পড়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। চাটনি বা তেঁতুলের টক তৈরিতে অনিরাপদ পানি ব্যবহার করলে পেটের অসুখ হতে পারে। সস্তা ও নিম্নমানের কৃত্রিম রঙ বা মসলা ব্যবহারের কারণে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।
তবে বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম উপায়ে বা কার্বাইড দিয়ে অপরিপক্ব কদবেল পাকিয়ে বিক্রি করার অভিযোগও পাওয়া যায়। তাই রাস্তার ধারের এই মুখরোচক খাবারটি খাওয়ার সময় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
স্কুলের সামনে কদবেল খাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের হাত ধুয়ে নেওয়া এবং বিক্রেতারা যেন খাবার ঢেকে রাখেন, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।