দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করেছে সরকার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বরাদ্দ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার পরিধি বাড়ানোর বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চিকিৎসা কেন্দ্রিক কাঠামো থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। অর্থমন্ত্রী জানান, এই বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামো উন্নয়নে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং চিকিৎসা শিক্ষা, জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণেও ব্যয় করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। তার ভাষায়, “মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে শুধু ব্যয় বাড়ানো যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন।”
নতুন বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান কর্মসূচি এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়নে। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে বাজেটে।