1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের বড় জয়

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

টানটান উত্তেজনা আর হাজারো আবেগের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। ডান পায়ের কাফের চোটের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর, অবশেষে ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন ঘটালেন।মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের ৩-০ ব্যবধানের বড় জয়ের দিনে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কোচ কার্লো আনচেলত্তির পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচ যখন ইতিমধ্যেই ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে এবং নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত, ঠিক তখনই মাঠে নামানো হয় নেইমারকে।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় নেইমারের উল্টো করে পরা ক্যাপ এবং চোখে-মুখে এক অদ্ভুত স্নায়ুচাপ স্পষ্ট ছিল; যেন আজই তার জাতীয় দলে অভিষেক হতে যাচ্ছে! ম্যাচ শুরুর আগে চোখ বন্ধ করে বুকে হাত দিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন, দলের সাথে অফিশিয়াল ছবি তুললেন এবং ডাগআউটে বসার পর কিংবদন্তি রোনালদিনহোর কাছ থেকে পেলেন একটি উষ্ণ আলিঙ্গন।

ব্রাজিল ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ট্রেনার মিনো ফুলকো নেইমারের কানে কানে কিছু একটা ফিসফিসিয়ে বললেন।

আর সেটাই ছিল মাঠে নামার সংকেত। ওয়ার্ম-আপের জন্য নেইমার যখন সাইডলাইনে দাঁড়ালেন, তখন পুরো মিয়ামি স্টেডিয়ামের দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।
গ্যালারির সেই গর্জনের সাথে সুর মিলিয়েছিল স্কটিশ ঐতিহ্যবাহী ব্যাগপাইপের সুরও। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে অবশেষে মাঠে প্রবেশ করেন নেইমার।ডান প্রান্ত দিয়ে দানিলোর কাছ থেকে প্রথম বলটি রিসিভ করেন নেইমার। তবে কোচ আনচেলত্তির পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি দ্রুত নিজেকে একজন ‘ফলস নাইন’ হিসেবে পজিশন করে নেন এবং বলের খোঁজে পুরো মাঠজুড়ে মুভ করতে থাকেন।

মাঠে আসার পরপরই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে বাড়ানো তার একটি দারুণ থ্রু-বল থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এরপর ব্রুনো গুইমারেসের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান পাস খেলতে গিয়ে কিছুটা খেই হারালেও, মাত্র ২০ মিনিটের এই উপস্থিতিতে নেইমার প্রমাণ করেছেন যে তিনি তার কাফের চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে রক্ষণভাগে তেমন অবদান না রাখলেও, আক্রমণের সময়ে দলের সবাই তাকেই খুঁজছিল। সবমিলিয়ে পুরো ম্যাচে তিনবার সুযোগ তৈরি করেন নেইমার। ম্যাচ শেষে স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়রাও এই তারকার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে এগিয়ে আসেন।

ম্যাচ শেষ হতেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার আগে সোজা ছুটে যান গ্যালারির দিকে। সেখানে জড়িয়ে ধরেন তার সন্তান দাভি লুকা, মাভি ও মেল এবং স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্ডিকে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টিভি গ্লোবো-কে নেইমার বলেন, ‘প্রচণ্ড নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু একই সাথে খুব আনন্দিত। সবকিছু খুব ভালোভাবেই শেষ হয়েছে।’

ম্যাচে খুব বেশি উজ্জ্বল পারফরম্যান্স না করলেও, এই ফেরার মাধ্যমেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন নেইমার। এটি তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। আর এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন কিংবদন্তি পেলে এবং রিভালদোর এক অনন্য রেকর্ড। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘১০ নম্বর’ জার্সি পরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪টি ম্যাচ খেলার কীর্তি এখন পেলে ও রিভালদোর পাশাপাশি নেইমারের নামের পাশেও। এখন দেখার বিষয়, নকআউট পর্বে এই তারকা ব্রাজিলকে কতটা পথ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd