বিদেশ : সুদানের উত্তর দারফুর অঙ্গরাজ্যের একটি উপজাতীয় আদালতে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লয়ার্স এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আমিরাতভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দ্য ন্যাশনাল। সংগঠনটির মতে, গত রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে আল সেরিফ এলাকার আল জাওয়িয়া ঘারাতে এ হামলা হয়। ওই সময় স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিভিন্ন মামলার শুনানি উপলক্ষ্যে আদালত চত্বরে বহু বেসামরিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ইমার্জেন্সি লয়ার্সের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি সুদানি সামরিক বাহিনীর (ঝঅঋ) ড্রোন থেকে চালানো হয়েছে। তবে, এ অভিযোগের বিষয়ে সেনাবাহিনী এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। হামলায় আদালত ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এটি একটি বেসামরিক স্থাপনা যা এলাকাবাসীর বিচারিক ও সামাজিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো। সংগঠনটি আরও জানায়, উত্তর দারফুরে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে ড্রোন ব্যবহারের হার বেড়েছে এবং বেসামরিক লোকজনের সমাবেশে হামলার ঘটনা মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করছে। তারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। আল জাওয়িয়া ঘারা এলাকাটি আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি কাবকাবিয়া শহরের কাছে অবস্থিত যা এল ফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। গত বছরের অক্টোবরে বড় ধরনের অভিযানের মাধ্যমে আরএসএফ এল ফাশের দখল করে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং সুদানি সামরিক বাহিনীর (ঝঅঋ) এর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। সুদানি সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো। এরপর থেকে চলমান যুদ্ধে সুদানে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।