1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

শুধু রোগ নিরাময় নয়, প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে, “শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়। এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একজন ডাক্তারের হাসিমুখ এবং সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়। চিকিৎসকই পারে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। অসুস্থ অসহায় মানুষের শেষ সম্বল হয় ডাক্তার। মানুষের চিকিৎসা কেবল ট্যাবলেট বা ওষুধ দেওয়া নয়; ভালো কথা ও সঠিক পরামর্শও বড় চিকিৎসা। একজন রোগী যখন বিছানায় কাতর হয়ে থাকেন, তখন ডাক্তার যা বলেন, তা-ই করেন রোগী। চিকিৎসকদের নিজেদের এমন মানবিক মানুষে রূপান্তর করতে হবে, যা কেবল ওষুধ নয়- আচরণ দিয়েও রোগীকে সুস্থ করে তোলে।

ক্যান্সার ও কিডনি রোগী বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, দেশে মারাত্মকভাবে বেড়েছে কিডনি ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিডনি ও ক্যান্সারের রোগীদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয় এবং এই রোগীদের কষ্টের সীমা নেই।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু ব্রিজ বা রাস্তাঘাট নির্মাণ করে ভোট চাওয়ার রাজনৈতিক যুগ পার হয়ে গেছে। মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে এবং জনগণের চাহিদার আলোকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। সেইসঙ্গে গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কাজ চালাতে হবে।

সরকার প্রধানদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার শপথ নিয়েছে এই সরকার। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার বাহিরে থাকবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য গবেষণার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ উল্লেখ করে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) রয়েছে। যখনই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য গবেষণার কথা আসে, তখন বাংলাদেশ অত্যন্ত গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা ডায়রিয়া ও কলেরা নিয়ে যে বিস্তৃত গবেষণা করেছি, তার সুফল আজ বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান।

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো ডেটা উপস্থাপনের আগেই গবেষকদের সরাসরি উপজেলা হাসপাতালে যাওয়া উচিত। সেখানের কর্মচারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সাথে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন, যেন প্রকৃত সমস্যা ও সংঘাতের (কনফ্লিক্ট) জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়। এক উপজেলার ভালো অভিজ্ঞতার খবর অন্য উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক উন্নতি দৃশ্যমান হবে।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd