1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

‘রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অপমান মেনে নিইনি’, ভারত সফর বাতিল নিয়ে উপদেষ্টা জাহেদ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার ভাষ্য, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত অপমানের নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে তিনি ভারত সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি সেখানে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, সরকারের এবং রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ প্রয়োজন বলে মনে করেছি। সেই কারণেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সফরের আগে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছিল এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগও সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে রোববার রাতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখে। পরে উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ না করে সফর বাতিল করেন এবং কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।

ঘটনা নিয়ে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ওয়াচ লিস্টে তার নাম থাকায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে সেটিকে প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ডা. জাহেদ উর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, তাকে নিয়ে যদি কোনো আপত্তি থাকত, তাহলে আগেই সেটি জানানো যেত। বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও আচরণ তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, “আমাদের হাইকমিশনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে ছিলেন। তার কোনো গাফিলতি ছিল না। বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছেন।”

কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেওয়া হয়নি, তবে পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার ছিল, যা প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার কথা। “কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকাই এই ঘটনার কারণ, এমনটা সঠিক নয়,” বলেন তিনি।

ভারত সফর বাতিলের সিদ্ধান্তকে কোনো বিরোধ বা শত্রুতার বার্তা হিসেবে দেখতে চান না ডা. জাহেদ উর রহমান। তার ভাষায়, “এটা কোনো শত্রুতার বিষয় নয়। রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদা ও সৌজন্যের প্রশ্নে একটি বার্তা দেওয়া প্রয়োজন ছিল।”

ঘটনার পরও বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি হবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, “বন্ধু বদলানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না। বাংলাদেশের জন্য যেমন সত্য, ভারতের ক্ষেত্রেও তেমনি। আমি আশা করি, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রভাব দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর পড়বে না।”

ভবিষ্যতে আমন্ত্রণ পেলে আবারও ভারত সফরে যেতে প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই যাব। আমরা ভারতের সঙ্গে যৌক্তিক ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা চাই। তবে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করা হবে।”

এদিকে ঘটনার পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারাই নেবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd