দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৫২০ জন। এদিকে একটি বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অনলাইন লিংক চালু করেছে, যেখানে নাগরিকরা তাদের নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য জমা দিতে পারছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার মানুষ নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, শুধুমাত্র যেসব ব্যক্তি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পেরেছেন এবং অনলাইনে তথ্য জমা দিয়েছেন, তাদের হিসাবই এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলাকে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘দ্রুত, কার্যকর ও বড় পরিসরের’ মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, দুর্যোগের প্রভাব দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে।