ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় বিরামহীন হালকা ও ভারী বৃষ্টিপাতে স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও বিরামহীন টানা বৃষ্টিপাতের ফলে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার পৌর সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা এবং কাঁচা রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একটানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। এতে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও নিচু সড়কগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এবং রাস্তায় কাদা জমে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির কারণে পুকুর ও চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার অনেক বাড়ির উঠান এমনকি রান্নাঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে গৃহিণীদের রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক গৃহস্থালি কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমনের বীজতলা এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা। কিছু কিছু নিচু এলাকার সবজি খেত ইতোমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় শিবসা ও কপোতাক্ষ নদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
উপকূলীয় এলাকার মানুষ একদিকে বৃষ্টির পানি ও অন্যদিকে জোয়ারের তীব্রতার কারণে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।