আফগানিস্তানে হিজাব ছাড়া পার্ক-রেস্টুরেন্টে মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

0
32

বিদেশ : আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে তালেবানরা হিজাব ছাড়া পার্কসহ সব রেস্টুরেন্টে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তালেবান নেতারা এই ধরনের জায়গায়গুলোতে মহিলাদের খোলামেলা চলাচলের অভিযোগ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, মহিলারা হিজাব না পরার কারণে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র হেরাত প্রদেশে পার্কসহ রেস্টুরেন্ট গুলোর জন্য প্রযোজ্য। ফক্স নিউজের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। গত সোমবার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পার্ক এবং রেস্টুরেন্টে মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শুধু হেরাত প্রদেশের জন্য প্রযোজ্য। তবে পুরুষদের জন্য এই জায়গা গুলো উন্মুক্ত থাকবে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে হেরাতের ভাইস এ- ভার্চু ডিরেক্টরেটের একজন উপ-কর্মকর্তা বাজ মোহাম্মদ নাজির রেস্টুরেন্টে মহিলাদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার বিষয় অস্বীকার করেছেন এবং সম্পূর্ণ বিষয়টিকে গুজব বলে আখ্যাত করেছেন। বাজ মোহাম্মদ নাজির বলেন, ধর্মীয় নেতাদের অভিযোগ তুলার পর আমরা কিছু এলাকা পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য সীমাবদ্ধ করেছি। বিশেষ করে সেই এলাকা গুলো যেখানে পুরুষ এবং মহিলাদের একে অপরের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা আছে। সেই ক্ষেত্রে আমরা রেস্টুরেন্ট গুলো বন্ধ করে দিয়েছি। হেরাতের ভাইস এ- ভার্চু ডিরেক্টরেটের প্রধান আজিজুর রহমান আল মুহাজির বলেছেন, “আমরা যে রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করেছি তা দেখতে পার্কের মতো ছিলো এবং পুরুষ-মহিলারা সেখানে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছিলো। তাই সেই রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে সংশোধন করা হচ্ছে। ২০২১ সালে তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণের পর মহিলাদের উপর আরোপিত বেশ কয়টি বিধিনিষেধের মধ্যে এখন পর্যন্ত এটি শেষ। এর আগে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় নিষেধাজ্ঞা, জাতিসংঘে চাকরি সহ বেশিরভাগ ধরণের কর্মসংস্থান বন্ধ করা হয়েছে। এদিকে টোলো নিউজ জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আফগান কর্মজীবী নারীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তালেবানকে সহায়তা দেয়ার বিষয় আবদ্ধ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, জাতিসংঘের জন্য কাজ করছে এমন মহিলাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আফগানিস্তানে এমন লিঙ্গ বৈষম্য সহ্য করা হবে না। তালেবানের সাহায্য কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করা হবে। জাতিসংঘ বলেছে, জাতিসংঘের সংস্থায় নারীদের কাজ নিষিদ্ধ করার পর থেকে সংস্থার ৩ হাজার ৩০০ পুরুষ ও মহিলা কর্মচারী ঘরেই থেকেছেন। চলতি বছরের ২৩ মার্চ সমস্ত স্কুল পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালেবান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। স্কুল গুলো আবার কখন খুলবে এবং মেয়েদের উপর শিক্ষার নিষেধাজ্ঞা তুলা হবে কী না সেই বিষয়ে কিছু জানায়নি তালেবান।