মোঃ নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ বাতিল করেছে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশের মাধ্যমে গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারকে দেওয়া পুনঃনিয়োগ বাতিল করা হলো।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারকে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়। পুনঃনিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তা বাতিলের দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, অবসর গ্রহণের পর মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারকে অধ্যক্ষ পদে পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
এদিকে পুনঃনিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গাজী মোঃ শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-১২৭৬২/২০২৬ দায়ের করেন। রিটে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্তৃক ২ সেপ্টেম্বর জারি করা পুনঃনিয়োগ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
রিটের শুনানি শেষে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস. এম. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিবাদীদের প্রতি রুল নিসি জারি করেন এবং পুনঃনিয়োগ আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন বলে আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরদিনই, ৮ সেপ্টেম্বর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে পুনঃনিয়োগ বাতিলের অফিস আদেশ জারি করা হয়। ফলে মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারের গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ আর বহাল থাকল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা পুনঃনিয়োগ-সংক্রান্ত বিরোধে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাও কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে মাওলানা এম. এ. বারী হাওলাদারের বক্তব্য ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তাকে এক বছরের জন্য অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী তাকে ভুল বুঝিয়ে পুনঃনিয়োগের বিরোধিতা করছেন।
সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশ ও আদালতের স্থগিতাদেশের পর এখন গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।