চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ধরাশায়ী হলো বাংলাদেশ। ১৮১ রানের লক্ষ্যে নেমে তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ইনিংসও হার এড়াতে পারেনি লাল সবুজদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রান করে ৩৯ রানে পরাজিত হয় স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আয়ারল্যান্ড।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুটা থেকেই বিপর্যস্ত হয় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে সাফল্য পায় আইরিশরা। ম্যাথিউ হামফ্রিসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কয়েক ওভারেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, অধিনায়ক লিটন দাস আর পারভেজ হোসেন ইমন ফেরেন এক অঙ্কের রান করে। পরে সাইফ হাসানও থিতু হতে না পারায় মাত্র ১৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ভেসে ওঠে ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র, যেখানে স্কোরবোর্ডে জ্বলে মাত্র ২০ রান।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন তাওহীদ হৃদয় ও জাকের আলী অনিক। দুজন ৪৮ রানের জুটি গড়লেও চাপ ধরে রাখতে পারেননি জাকের। ১৬ বলে ২০ করে তিনি সাজঘরে ফিরলে আবারও পতন শুরু হয় বাংলাদেশের। তানজিম হাসান সাকিব ৫ রানে বিদায় নেওয়ার পর একই ওভারে রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদকে তুলে নেন হামফ্রিস। হ্যাটট্রিক না হলেও তার স্পেলেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা।
একাই প্রতিরোধ গড়ে যান হৃদয়। ৫০ বলে সাত চার ও তিন ছক্কায় আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। নবম উইকেটে শরিফুল ইসলামকে নিয়ে স্কোরে আরও কিছুটা যোগ করেন। শরিফুল ১৩ বলে ১২ রান করলে শেষ পর্যন্ত হৃদয়ই অপরাজিত থাকেন, তবে দলকে জেতাতে পারেননি। আইরিশদের পক্ষে হামফ্রিস ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী বোলার হন। ব্যারি ম্যাককার্থি নেন ৩ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করায় আয়ারল্যান্ড। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর। স্টার্লিং ১৮ বলে ২১ রান করে ফেরেন, আর টেক্টর ক্রিজে দাপট দেখান ১৯ বলে ৩২ রানে। পরে কুর্তিস ক্যাম্ফার ১৭ বলে ২৪ রানে দলের রান তোলায় গতিময়তা যোগ করেন।
দিনের সেরা ব্যাটিংটি এসেছে হ্যারি টেক্টরের ব্যাট থেকে। ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৯ রানে তিনি ইনিংসের শেষভাগে দলের সংগ্রহ বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার ব্যাটিংয়েই শেষ দিকে আয়ারল্যান্ড স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে কাঙ্ক্ষিত চাপ।
বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান কম রানে বোলিং করলেও উইকেটশূন্য থাকেন। ৪ ওভারে দেন মাত্র ২৩ রান। সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব, যদিও তাকে গুনতে হয়েছে ৪১ রান। শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন ১টি করে উইকেট পান।
এই হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। টেস্ট সিরিজে দাপট দেখানোর পর ফরম্যাট বদলাতেই ছন্দপতন দেখা গেল স্বাগতিকদের। একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে ২৯ নভেম্বর।