স্পোর্টস: ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার আবারও চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকছেন। বাংলাদেশের সময় ২০ নভেম্বর সকালে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে মিরাসলের বিপক্ষে সান্তোসের ১-১ ড্র ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করার পর সোমবার ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে খেলানো হয়নি তাকে। মঙ্গলবার সাও পাওলোয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার বাঁ হাঁটুর মেনিসকাসে চোট ধরা পড়ে। ফলে ব্রাজিলের এ বছর আর মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম।
নেইমারের জন্য চোট নতুন কিছু নয়। ২০২৫ সালে তিনি চারবার শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন। মার্চে সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা পান, এপ্রিলের ম্যাচে বাঁ উরুর সেমিমেমব্রানোসাস পেশিতে চোট, সেপ্টেম্বরে ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে গ্রেড-টু চোট। এবার নতুন চোটে বাঁ হাঁটুতে মেনিসকাসে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চোট পাওয়ার আগে নেইমার সান্তোসের হয়ে টানা তিন ম্যাচ খেলেছেন-পালমেইরাসের বিপক্ষে জয়, ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে হার, মিরাসলের বিপক্ষে ড্র। মিরাসলের বিপক্ষে গোলও করেছেন, যা ৪ আগস্টের পর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তার প্রথম গোল ছিল। তবে গোলের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ পেনাল্টি থেকে গোল খেয়ে সমতা ফিরেছে।
হাঁটুর নতুন চোট নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার পথ আরও কঠিন করে দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারবেন কি না তা এখনও অনিশ্চিত। আগামী মার্চে ব্রাজিল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, এরপরই স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। ক্লাব সূত্র জানাচ্ছে, হাঁটুর কোনো ভাঙন বা সংক্রমণ নেই, তবে প্রচণ্ড ব্যথা থাকায় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সান্তোসের কোচরা জানাচ্ছেন, নেইমারের চোট ক্লাবের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে ফেরার পরই নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে তাকে। বেইন স্পোর্টস জানিয়েছে, নতুন চোটের কারণে চলতি মৌসুমে অন্তত তিনটি ম্যাচে নেইমার খেলতে পারবেন না।
নেইমারের জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় নেওয়া হবে শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট হলে। নেইমারের সামনে সময় খুবই সীমিত, এবং পুরোপুরি সুস্থ না হলে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।