1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, ‘নতুন ঐতিহাসিক মোড়ে’ চীন, পিয়ংইয়ং সম্পর্ক

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন একটি ‘নতুন ঐতিহাসিক মোড়ে’ দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (৮ জুন) বিরল রাষ্ট্রীয় সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছে তিনি দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। রয়টার্স ও চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে শিকে স্বাগত জানান। সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরে এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। সফরের আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শি বলেন, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং দুই দেশ সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়াবে। শি জিনপিং তার লেখায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদ ও সামরিকবাদের বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে অবস্থান নিতে হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করতে হবে।”
রয়টার্স জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ে শিকে বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু তাকে লালগালিচায় স্বাগত জানান। কিম ইল সুং স্কয়ারে সামরিক ব্যান্ড দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে এবং ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো দুই দেশের পতাকা ও বন্ধুত্বের বার্তায় সাজানো হয়েছিল। দুই দিনের এই সফরে শি জিনপিং ও কিম জং উনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। শির সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী পেং লিউয়ান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। শির সফরের আগের দিন রোববার (৭ জুন) দেশটি ১০ হাজার টনের একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশ করে। একই সময়ে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সিপ্রির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং তারা পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের গুরুত্ব শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক সিডনি সায়লার বলেন, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতে দেশটির কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র ফেলো ক্রেইগ সিংলেটন মনে করেন, শি ও কিমের এই বৈঠক প্রমাণ করছে যে বেইজিং এখনো পিয়ংইয়ংকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তার ভাষায়, “এই সম্পর্ক আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।”
করোনা মহামারীর পর সীমান্ত যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার পর এটিই উত্তর কোরিয়ায় কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্রুত পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে শি জিনপিংয়ের এই সফর পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd