1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ওই বাসার বাসিন্দা আব্দুস সত্তার মিয়া (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, বাসাটির ভেতরে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে এক মিস্ত্রি ওই বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়। স্থানীয়রা বাসার বারান্দায় রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। একপর্যায়ে বাসার দরজার নিচ দিয়েও রক্ত বের হতে দেখা যায়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। পরে শুরু হয় মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায়নগরের একই বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তাদের বাড়ির কর্তা, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকিরও স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনজনের মরদেহ পাওয়ার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বাসার আলমারি ও ড্রয়ার খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ফলে ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পারিবারিক কলহ, শত্রুতা বা পূর্ববিরোধের কোনো বিষয় ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বাসার ওয়ারড্রোব ও আলমারিগুলো খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস সরানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এর পেছনে পারিবারিক শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিল পাওয়া গেছে, সেটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনাস্থলে এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

তিনজনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার হলেও ঘটনাটি হত্যা কি না, এর পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের তদন্ত চলছে। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd