ইতিহাসের প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) কোনো ম্যাচ। ২০২৬-২৭ মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কর্চার্সের মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস। গতকাল শুক্রবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ম্যাচের ঘোষণা দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের সরকার এবং অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া রিলেশনস সেন্টারের সহযোগিতায় এই আয়োজন বাস্তবায়িত হচ্ছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও এতে অর্থায়ন করছে এবং এটিকে দুই দেশের ক্রিকেট-সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। চেন্নাই সুপার কিংসের আইপিএল ভেন্যু এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে। এটি রেনেগেডসের হোম ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হবে। শেফিল্ড শিল্ডের ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে দুই দলই ভারত সফরে যাবে এবং ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে বিবিএলের বাকি সূচিতে অংশ নেবে। এই আয়োজন আপাতত একবারের জন্য হলেও এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনার সম্ভাবনা দেখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যদি ভবিষ্যতে আইপিএলের কোনো ম্যাচ দেশের বাইরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এই ম্যাচ সেই পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে তারা। বিগ ব্যাশ লিগসের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক অ্যালিস্টার ডবসন বলেন, “রাজ্য সরকার, বিভিন্ন ভেন্যু এবং আমাদের কয়েকটি ক্লাবের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই আগ্রহ দেখানো হয়েছে-অস্ট্রেলিয়ায় একটি আইপিএল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে। আইপিএল অবশ্যই অন্য পর্যায়ের একটি টুর্নামেন্ট এবং এটি দুই দেশের মধ্যে অসাধারণ সংযোগ তৈরি করবে। আমরা ইতোমধ্যেই মেলবোর্নে এনএফএলের একটি ম্যাচ ঘিরে যে উন্মাদনা দেখেছি।” তিনি আরও বলেন, “এই আয়োজনের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে সঠিক সময় এলে এমন আলোচনা করতে আমরা অবশ্যই আগ্রহী থাকব। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটও সেটিকে স্বাগত জানাবে, কারণ আইপিএলের ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় বিশাল অনুসারী রয়েছে।” ডবসনের মতে, বিদেশে ক্রিকেট আয়োজন সহজ নয়, তবে ক্রিকেটপ্রেমী ভারতের মতো একটি বাজারে বিবিএলকে পৌঁছে দেওয়ার এটিই সেরা সুযোগ। তিনি বলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি। যেকোনো ক্রীড়া আয়োজন বিদেশে নেওয়া কঠিন। আর ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন আরও জটিল। তবে আমরা এমন একটি বাজারে যাচ্ছি, যেখানে মানুষ ক্রিকেটকে ভীষণ ভালোবাসে এবং নিয়মিত বড় বড় ক্রিকেট ইভেন্ট আয়োজন করে।” চেন্নাইয়ে দর্শক উপস্থিতি নিয়েও বেশ আশাবাদী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম পুরোপুরি ভরে যাবে বলেই বিশ্বাস তাদের। ডবসন বলেন, “ভারতের সর্বত্রই ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ রয়েছে, বিশেষ করে চেন্নাইয়ে। যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি, সবাই আশাবাদী যে দারুণ দর্শক উপস্থিতি হবে। এই আয়োজন করতে গিয়ে আমরা আরও একটি বিষয় বুঝতে পেরেছি-ভারতে বিবিএল ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। অনেক সময় আমরা হয়তো বিষয়টি উপলব্ধিই করি না। অবশ্যই এটি আইপিএলের জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও নয়। কিন্তু বিবিএলকে ভারতীয় দর্শকরা পছন্দ করে এবং সম্মান করে। আমরা চাই, অস্ট্রেলিয়ায় টেলিভিশনে যারা ম্যাচ দেখবেন, তারা যেন এটিকে একটি প্রকৃত বিবিএল ম্যাচ হিসেবেই অনুভব করেন। একই সঙ্গে চেন্নাই এবং ভারতের দর্শকরাও যেন বিবিএলের রঙ, দর্শকদের উচ্ছ্বাস, দারুণ ক্রিকেট এবং অনন্য পরিবেশের পূর্ণ অভিজ্ঞতা পান। এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” এর আগে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইপিএল দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হলেও সেটি ছিল নির্বাচন ও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে। অন্যদিকে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কয়েকটি ম্যাচ আয়োজন করলেও, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোনো বড় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিজেদের দেশের বাইরে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজন করেনি। সেই দিক থেকে চেন্নাইয়ে বিবিএলের এই উদ্বোধনী ম্যাচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকছে।