1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দফাদারের মতিয়ারের বিরুদ্ধে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে ও ভিডিও কলে কথা হয়—এমন দাবি করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে খুলনার কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, টাকা ছাড়া কাজ না করা এবং মানুষের কাগজপত্র ছিঁড়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের ১২ সদস্যের সমর্থনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান  এবং পরিষদের একাধিক সদস্যও মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রচার করে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, মতিয়ার রহমান বিভিন্ন সময় দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কথা হয়। তাঁকে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের কাছেও এমন কথা বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান।
কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আসাদুল হক বলেন, ‘দফাদার মতিউর রহমানের ব্যবহার খুবই খারাপ। ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি দুর্ব্যবহার করেন। টাকা না দিলে কাজ করে দেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেক সময় মানুষের কাগজপত্র ছিঁড়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁর এমন আচরণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের পর পরিষদের ১২ সদস্যের সমর্থনে একটি রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে তা পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আল বাকি বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দফাদার মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দফাদারের চাকরি করি তাই কী হইছে? চাকরি যদি না থাকে থাকুক। আমি শিক্ষিত মানুষ। অ্যাডভোকেট পড়ছি, আইনজীবী হব। এ চাকরি না থাকলে কিছুই আসে যায় না।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলে কথা বলার কথা প্রচার করেন মতিয়ার রহমান। এভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর কাছ থেকে তাঁরা দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব আচরণ প্রত্যাশা করেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd