1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

ছয় বছরেও হয়নি নতুন সেতু, বাঁশের সাঁকোই পাঁচ গ্রামের ভরসা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:  খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওড়াতলা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যাওয়ার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার করছেন অন্তত পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালে ওড়াতলা খালের ওপরের সেতুটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠেছে পারাপারের একমাত্র ভরসা। বর্ষা ও জোয়ারের সময় এ সাঁকো দিয়ে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাড়কে সংযুক্ত করেছে নড়বড়ে বাঁশের পুল। ২ নম্বর কয়রা, ওড়াতলা, গোবরা, হরিণখোলা ও পূর্বচকসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এ সাঁকো ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে।
সেতুটি ১৯৯৬ সালে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালে এটি পুরোপুরি ধসে পড়ার পর থেকে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকাটি।
স্থানীয়রা গোবরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ সরদার জানান, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। সেতু না থাকায় ভ্যান, ইজিবাইক কিংবা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারজাত করতে বাড়তি পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। রাতের বেলা কোনো রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সভায় একাধিকবার তোলা হয়েছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ভাঙা সেতুটির কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ কার্যত উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
কয়রা উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী  মো. আফজাল হোসেন বলেন, ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপরের সেতুটি দীর্ঘদিন আগে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে সেতুটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। নতুন করে সেখানে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। ।
কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, ‘ সেতুটি এলজিইডি অধীনে। যতটুকু জেনেছি, এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু, যা এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ছবি ও ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব, যাতে ওই এলাকায় নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যায়।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতু ২০২০ সালে ধসে পড়ার পর ছয় বছর পার হলেও নতুন সেতু নির্মাণে এত সময় লাগছে কেন। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শুরু করা হোক। তাঁদের মতে, বাঁশের সাঁকো দিয়ে দীর্ঘদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর যাতায়াত চলতে পারে না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd