ফকিরহাট প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট সদর উপজেলার ৯নং রাখালগাছি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ ও জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছেন তরুণ ও ত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব শেখ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিব। রাখালগাছি ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, জনাব আবুল হোসেনের পুত্র ২৯ বছর বয়সী এই উদীয়মান তরুণ নেতা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
২০০৬ সালে রাখালগাছি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে নিজের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন হাবিব। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে দক্ষতার সাথে কাজ করে সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদের শক্ত প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি সদর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি পুনঃগঠন করা হলে সেখানে তাঁকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সদর উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নে সফলভাবে কর্মী সভা সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলেন তিনি।
শেখ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিবের পুরো রাজনৈতিক জীবন জুড়ে রয়েছে হামলা, মামলা, কারাবরণ ও নির্মম নির্যাতনের ইতিহাস। ২০১৪ সালের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাচনে তৎকালীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ নাছের আহমেদ মালেকের পক্ষে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি দুই বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ১টি রাজনৈতিক মামলা করা হয়, যেখানে তিনি নিজেও আসামি ছিলেন। এ ছাড়া ২নং ক্ষেত্রে ৩টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ২ থেকে ৩ বার থানায় বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
২০২০ সালের দিকে শহরের দশানী মোড়ে দলীয় কর্মসূচি শেষে বিএনপি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় শেখ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিবকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। তাঁদের টর্চার সেলে এক দিন ও এক রাত আটকে রেখে তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে কিছু টাকা ও দলের সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় তিনি মুক্ত হন। রাজনৈতিক কারণে তিনি জীবনে অন্তত ৭ বার সরাসরি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা তাঁর বসতবাড়িতে গিয়ে ২ বার ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার বা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট গ্রেপ্তার হন হাবিব। এরপর নাশকতা মামলা ও ১৯৭২ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ২৫(D) ধারার মামলায় তাঁকে টানা ৪০ দিনেরও বেশি সময় কারাভোগ করতে হয়। ওই সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ স্নাতক পর্যায়ের পরীক্ষা চলছিল। আন্দোলন চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে কারাগারে থাকায় ও প্রশাসনিক জটিলতায় তিনি আর উক্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, যা তাঁর শিক্ষাজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে।
রাজনীতি ও রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি হাবিব সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সবসময় নিবেদিত রেখেছেন। দল যখন ক্ষমতার বাইরে এবং নেতাকর্মীরা কোণঠাসা, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অসুস্থ ও আহত নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১৫০ থেকে ২০০টি অসহায় পরিবারের মাঝে সেমাই, চিনি, সাবানসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার উপহার হিসেবে পৌঁছে দিয়েছেন। করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রে বিতরণ করেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বছর এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের মাঝে কলম, স্কেল, ফাইলসহ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন তিনি।
শিক্ষা ও সার্বিক যোগ্যতার দিক থেকেও হাবিব অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গাজীপুর থেকে ব্যবস্থাপনা (Management) বিভাগে সাফল্যর সাথে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন তিনি। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (USAID)-এর ২১তম ব্যাচ থেকে ‘ইয়াং পলিটিক্যাল ফেলো’ হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হাবিব নারী নেতৃত্ব, দ্বন্দ্ব নিরসন, নির্বাচনী এজেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ‘মাস্টার্স ট্রেইনার’ হিসেবে দক্ষতা অর্জন করেছেন। এ ছাড়া দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের অধীনে ‘ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ, বাগেরহাট’-এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ধর্মীয়, জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে তিনি কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি রাখালগাছির পল্লী উন্নয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি এবং পিকেএসপি প্রকল্পের অধীনে ‘উদ্দীপন-বাগেরহাট’-এর ১৯৮টি কৈশোর/কিশোরী ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
যেহেতু নিজে একজন শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত তরুণ, তাই ৯নং রাখালগাছি ইউনিয়নকে নিয়ে তাঁর ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অত্যন্ত স্পষ্ট ও আধুনিক। তিনি চান তরুণদের সর্বনাশা মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে ইউনিয়নব্যাপী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে, যাতে একটি মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠার পাশাপাশি কিশোর ও যুবকরা খেলার মাঠ, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে। বেকার যুবকদের সুশিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে ইউনিয়নে ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় নাগরিক সেবা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ডিজিটাল এবং সাধারণ মানুষের জন্য দালালামুক্ত ও সহজলভ্য করা হবে। ইউনিয়নের প্রতিটি কাঁচা রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন ঘটিয়ে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং কৃষি ও মৎস্য চাষিদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা সৃষ্টির পাশাপাশি ধর্মীয়, জাতিগত ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সালিশ-বিচার ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।