1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন

বাগেরহাটে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে উৎসবের আমেজ, জোরদার নিরাপত্তা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন
বাগেরহাট  প্রতিনিধি: বাগেরহাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে পূজার প্রস্তুতি ও বর্ণাঢ্য আয়োজন। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। একই সঙ্গে জেলার ৬১১টি পূজামণ্ডপে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৬১১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিমার সংখ্যার দিক থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ তিনটি দুর্গামন্দিরের অবস্থানও এ জেলায়। ব্যতিক্রমী প্রতিমা, পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর উপস্থাপনা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় এসব পূজামণ্ডপ ইতোমধ্যে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
জেলার চিতলমারী উপজেলার চণ্ডীভিটা সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে এবার তৈরি করা হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক প্রতিমা। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় উপাখ্যানের চরিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণ। দেব-দেবীসহ নানা পৌরাণিক চরিত্রের প্রতিমা দেখতে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
একই উপজেলার পঞ্চপল্লী সার্বজনীন দুর্গামন্দিরেও এবার প্রতিমার সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুলকাটি বণিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপে ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ থিমপূজার। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগের বিভিন্ন ধর্মীয় আখ্যান এবং দেব-দেবীর প্রতিমা দিয়ে সাজানো হয়েছে পূজামণ্ডপটি। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চুলকাটি বণিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কমল সাধু বলেন, “প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে ব্যতিক্রমী থিমপূজার আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত এই আয়োজনে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি।”
এদিকে, দুর্গোৎসব ঘিরে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, টহল কার্যক্রম এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রতীক।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য মানদণ্ড বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি টহল দল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় বাগেরহাটে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে, সুদৃঢ় হবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd