1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন

পদত্যাগের কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দিলেন টেইট

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইট মুখ খুলেছেন নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই গতিতারকা জানিয়েছেন, বিসিবির দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল না হুট করে নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন তিনি। মূল কারণ ছিল পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর প্রয়োজনীয়তা। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে টেইট বলেন, অনেকের কাছেই বিষয়টি অদ্ভুত মনে হয়েছে। এমনও মনে হতে পারে যে তিনি দলকে মাঝপথে ছেড়ে চলে গেছেন কিংবা সমর্থকদের হতাশ করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো, এক বছরেরও বেশি সময় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি উপলব্ধি করেন, পরিবারের জন্য এখন আরও বেশি সময় দেওয়া জরুরি। পাকিস্তানভিত্তিক ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট পাকপ্যাশন.নেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি জানি, এটা দেখতে খুবই অদ্ভুত লেগেছে। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনে হতে পারে যে আমি তাদের মাঝপথে ফেলে চলে যাচ্ছি এবং মানুষের আশা ভঙ্গ করছি। আমি দলটার সাথে এক বছরের কিছু বেশি সময় কাটিয়েছি, তবে আমার পরিবারকে এখন আরও বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম, এটা হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।’ টেইট জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তার আট বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার পাশে থাকা প্রয়োজন বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, এমন দায়িত্ব ছাড়ার জন্য আসলে কখনোই উপযুক্ত সময় আসে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি ক্রিকেট ছেড়ে দিচ্ছেন বা ভবিষ্যতে আর কোচিং করবেন না। সাবেক এই পেসার আরও ব্যাখ্যা করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিং করানোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বছরের প্রায় ১০ মাসই দেশের বাইরে থাকতে হয়। পরিবারের সঙ্গে সেই দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতাই তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। টেইটের ভাষ্যমতে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমার ৮ বছরের একটি মেয়ে আছে এবং তাকে আমার এখন আরও কিছুটা সময় দেওয়া দরকার। আসলে এই কাজটা করার জন্য কোনো সময়ই উপযুক্ত সময় হতো না, তবে এর মানে এই নয় যে আমি ভবিষ্যতে ক্রিকেটের সাথে কাজ করব না। ব্যাপারটা হলো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দায়িত্ব থাকলে বছরের প্রায় ১০ মাসই বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়।’ বিসিবির সঙ্গে বিকল্প কোনো সমঝোতার সুযোগ ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে টেইট জানান, বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছিল। তিনিও আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন টেইট। তিনি জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে কোচিং করানোর সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। তবে আপাতত তার আগ্রহ এমন কোনো দায়িত্বে, যেখানে পুরো বছর ব্যস্ত থাকতে হবে না। বিশেষ করে কেবল একটি সংস্করণ-যেমন টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে-নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে সেটিই তার প্রথম পছন্দ হবে। পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে টেইট বলেন, তার মেয়ের বয়স যদি ২০ বছর হতো, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু এখন মেয়ের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবার উপস্থিতিকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। টেইট বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছুটা আলাপ করেছিলাম এবং আমিও আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হয়ে ওঠেনি। তাই দেখা যাক ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসে। অবশ্যই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে কোচিং করানোর মতো বিকল্প সুযোগ রয়েছে, তবে এই মুহূর্তে যেকোনো একটি সংস্করণে (যেমন শুধু টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে) কাজ করাটাই আমার প্রথম পছন্দ হবে। আমার মেয়ের বয়স যদি ২০ বছর হতো, তবে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।’ টেইট আরো যোগ করেন, ‘বাংলাদেশে সবসময় একটা পরিবর্তন বা প্রক্রিয়া চলমান থাকে। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্রিকেট বোর্ডেও আবার পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবসময়ই কিছু না কিছু ঘটতে থাকে, সবসময়। বিসিবির সাথে আমার ভালো সময় কেটেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি বিসিবির কোনো সমস্যার কারণে চাকরি ছাড়িনি। তারা আমার প্রতি বেশ ভালো ছিল এবং সেখানকার ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথেই আমার দারুণ সম্পর্ক ছিল।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd