1. admin@dakshinanchal24.com : admin@dakshinanchal24.com :
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন

অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোকে কমিউটার ট্রেনে রূপান্তরের উদ্যোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোকে কমিউটার ট্রেনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ডেমু ট্রেনগুলো রেলওয়ের বিভিন্ন শেডে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। অথচ প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় ওই ট্রেনগুলো কেনা হয়েছিলো। মূলত বেশিসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য ২০ সেট ডেমু ট্রেন চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। প্রতিটি ট্রেনের পরিচালনাকাল ৩০-৩৫ বছর ধরা হলেও মাত্র ৭-৮ বছরেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে সবগুলো ডেমু ট্রেন। বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার অচল ডেমু ট্রেনগুলোকে আবারো সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে। ওই লক্ষ্যে ডেমু ট্রেন নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সবগুলো ট্রেন খোলাস্থানে পড়ে রয়েছে। যদিও ট্রেন মেরামত করার সময় তা শেডের ভেতরে রাখা হয়।  পাবলিক বা প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় কেউ ডেমু ট্রেন মেরামত করতে চাইলে নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারবে। গত এপ্রিলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেজন্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চীন থেকে আনা ডেমু ট্রেনগুলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত। সেজন্য প্রস্তুতকারক চীনা প্রতিষ্ঠান বিশেষ সফটওয়্যার সংযোজন করে। কিন্তু প্রযুক্তি হস্তান্তর না করায় কোনো ত্রুটি হলেই তাদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অত্যধিক বেশি খরচ দাবি করতো। যার পরিমাণ ট্রেনগুলোর আমদানি ব্যয়ের প্রায় সমান। সেজন্যই ৬০০ কোটি টাকার ট্রেনগুলো অকেজো হয়ে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে।

সূত্র জানায়, চীনের তানশাং ইন্টারন্যাশনাল ও ডানিয়াল টেকনিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে বিগত ২০১৩ সালে ২০ সেট ডেমু ট্রেন কেনা হয়েছিলো। প্রতিটি ট্রেনেই দুদিকে দুটি ইঞ্জিন এবং মাঝখানে একটি কোচ রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি ডেমুতে প্রায় ৭ লাখ টাকা দামের ৪০টি মডিউল ছিলো। কারণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ট্রেনগুলো বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে পরিচালিত হয়। কিন্তু ডেমু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে ওই প্রযুক্তি হস্তান্তর করেনি। ফলে কোনো মডিউল বিকল হলে নতুনভাবে সফটওয়্যার সেটআপ দিতে বাধ্য হয়ে চীনা প্রকৌশলীদের স্মরণাপন্ন হতে হচ্ছিলো। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চুক্তি অনুসারে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে ১৯ ধরনের প্রধান যন্ত্রাংশ, ৩৭ ধরনের সাধারণ যন্ত্রাংশ, ১৩৭ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ যন্ত্রাংশ এবং ৩৭ ধরনের (সরঞ্জাম) টুলস ও মেরামত কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র দেয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্প কর্মকর্তারা সেগুলো সঠিকভাবে বুঝে নেয়নি। ফলে পরে ডেমু মেরামতের প্রয়োজনে যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে ডেমু ট্রেন আমদানি করা হলেও বাস্তবে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিলো। যেজন্য বিকল হওয়ার ভয়ে ট্রেনগুলোকে সুপার অফপিক আওয়ার বা যখন যাত্রী কম থাকে চালানো হতো।

সূত্র আরো জানায়, ডেমু ট্রেনগুলোর নানা সমস্যা ছিলো। তার মধ্যে প্রধান সমস্যার মধ্যে ছিল চাহিদার তুলনায় যাত্রী ধারণক্ষমতা কম হওয়া, পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশের সুযোগ না থাকা এবং যাত্রীদের আসনের নিচে ইঞ্জিন থাকায় মেঝে গরম হয়ে যাওয়া। পরে চীন থেকে প্রকৌশলী এনে এসির পরিবর্তে ফ্যান লাগানো এবং জানালা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া ডেমু ট্রেনের দরজার হাতলও যাত্রীবান্ধব ছিল না। সাধারণ ট্রেনের চেয়ে দরজার উচ্চতা আধা ফুট বেশি হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের উঠতে সমস্যা হতো। পাশাপাশি ডেমুতে কোনো টয়লেটও ছিল না। বর্তমান সরকার শুধু ডেমু সচল নয়, নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু, রেললাইন নির্মাণ, কোচ ও ইঞ্জিনের সংস্কার, নতুন কোচ ও ইঞ্জিন কেনা, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারিভাবে ট্রেন চালুসহ রেলওয়েকে ঘিরে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, রেলওয়ের অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোকে ব্যবহারের উপযোগী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেজন্য পাইলটিং প্রকল্পে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। প্রতিষ্ঠান নির্বাচন শেষে পরের দুই মাসে তাদের কাছে অকেজো ডেমু ট্রেন হস্তান্তর করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2018
Design By BDit.com.bd