• শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১১:৫০

হাফিজ বাবর ও ম্যানেজমেন্টের কড়া সমালোচনায়

প্রতিনিধি: / ৮৭ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

স্পোর্টস: টিম ডিরেক্টরের চাকরি হারানোর পর পাকিস্তান দলের ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। তার দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ফিটনেসকে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হতো না। সাবেক এই অলরাউন্ডারের মতে, ফিটনেসকে উপেক্ষা করলে সাফল্য পাওয়া খুব কঠিন। ভারত বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে আসে বেশ কিছু পরিবর্তন। অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দেন বাবর আজম। গত নভেম্বরে টিম ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় হাফিজকে। একই সঙ্গে তাকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড সফরে প্রধান কোচের দায়িত্বও দেওয়া হয়। শান মাসুদের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় পাকিস্তান। আর শাহিন শাহ আফ্রিদির অধিনায়কত্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কেবল একটি জিততে পারে তারা। গত ১৫ ফেব্রæয়ারি, ঠিক তিন মাস পর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় হাফিজকে। পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য সব ক্রিকেটীয় এবং অন্যান্য অপেশাদার অ-ক্রিকেটীয় কারণ তুলে ধরার’ কথা লেখেন হাফিজ। পাকিস্তানের একটি টিভি শো ‘দা প্যাভিলিয়ন’-এ হাফিজ তুলে ধরেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে তিনি সাবেক অধিনায়ক বাবরসহ, সাবেক টিম ডিরেক্টর মিকি আর্থার ও সাবেক প্রধান কোচ গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্নকে কাঠগড়ায় তোলেন। “অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আমি সব ক্রিকেটারকে তাদের ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহŸান জানিয়েছিলাম। ট্রেনারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, খেলোয়াড়দের এখনকার ফিটনেসের অবস্থা কী? চমকপ্রদ এক উত্তর দেন তিনি। বলেন, ‘ছয় মাস আগে টিম ডিরেক্টর, প্রধান কোচ ও অধিনায়ক আমাকে বলেছিলেন, এই মুহূর্তে ফিটনেস অগ্রাধিকার নয়। এই খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরীক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই- তারা যেভাবে খেলতে চায় খেলতে দিতে’।” “ছয় মাস পর যখন আমি তাদের পর্যবেক্ষণ করি, তখন তাদের মেদ মাপা হয়, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। যখন চামড়ার ভাঁজ মেপে দেখা হলো, আমাদের সব টেস্ট ক্রিকেটারের অবস্থা ছিল বর্ধিত মানের চেয়ে দেড় থেকে পৌনে দুই গুন বেশি। যা অনেক বেশি” অস্ট্রেলিয়া সফরে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ফিটনেস এতটাই বাজে ছিল যে, কেউ কেউ পরীক্ষায় ব্যর্থও হয়েছিলেন। “২ কিলোমিটার দৌড়ে কয়েকজন ক্রিকেটার তো শেষই করতে পারল না। যখন আমি জানতে পারি যে, ছয় মাস আগে নেওয়া একটা সিদ্ধান্ত যেখানে ফিটনেসের এইসব মানদÐ উপেক্ষা করা হয়েছিল, এটা আমাকে খুবই হতবাক করেছিল।” ওই শো-তে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। উত্তরসূরিদের ফিটনেস নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা করা এই ক্রিকেটার বলেন, ‘অধিনায়ক (বাবর) এর (ফিটনেসকে উপেক্ষা করা) সঙ্গে যুক্ত ছিল। ক্রিকেট ডিরেক্টর (মিকি আর্থার) ও কোচ ব্র্যাডবার্নও।” আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে এসে পাকিস্তান দলের ফিটনেসকে উপেক্ষা করার বিষয়টি মানতেই পারছেন না হাফিজ। “আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনি কিভাবে ফিটনেসকে উপেক্ষা করতে পারেন? যখন এমনটা করা হবে, তখন ফলাফল (অস্ট্রেলিয়ায় হোয়াইটওয়াশ) তো এইরকম হবেই।” আকরাম, হাফিজের সঙ্গে ওই শো-তে থাকা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আজহার আলি বলেন, কয়েক বছর আগেও ফিটনেসকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হতো পাকিস্তান ক্রিকেটে। “আমরা যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (২০১৭) জিতেছিলাম, ওই সময় ফিটনেস পরীক্ষা উতরাতে না পারায় একজনকে (দেশে) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ফিটনেসের ওপর অনেক গুরুত্ব দেওয়া হতো। এরপর ওই সংস্কৃতিৃ আমরা যখন লর্ডসে টেস্ট জিতেছিলাম, সবাই বলেছিল আমাদের বেশ ফুরফুরে লাগছে। সত্যিকার অর্থেই, ব্যক্তিগতভাবে ওই সময়ে সেরা ফিটনেসে ছিলাম আমি।”


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com