• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৪

মেক্সিকোর তুলুম এবার বেরিলের গন্তব্য

প্রতিনিধি: / ১৯ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০২৪

বিদেশ : ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জগুলোতে কয়েক দিন ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর হারিকেন বেরিল বৃষ্টিসহ প্রচন্ড শক্তি নিয়ে গত বুধবার জ্যামাইকায় আছড়ে পড়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে তান্ডব চালিয়ে মেক্সিকোর ইউকাটান উপদ্বীপের উপকুলে কুইন্টানা রু এলাকায় অবস্থিত তুলুম শহরে এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে তাতু ব চালিয়ে বেরিল এখন ক্যাটাগরি ২ ঝড়ে পরিণত হয়েছে। জ্যামাইকার দক্ষিণ উপকুলকে কেন্দ্র করে বেরিল আঘাত হেনেছিল। বন্যাপ্রবণ এই এলাকাটি থেকে বাসিন্দাদের আগেই সরানো শুরু করেছিলেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। কিছুটা দুর্বল হওয়ার আগে শক্তিশালী ক্যাটাগরি ৪ ঝড় হিসেবে সেখানে আঘাত হেনেছিল। ঝড়ের পর পূর্ব ক্যারিবিয়ানে ব্যাপক বন্যা এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে বিধ্বস্ত দ্বীপগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস বুধবার দেশব্যাপী কারফিউ জারি করার পর থেকে দ্বীপটির প্রধান বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রয়েছে আর রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। জ্যামাইকায় ঝড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন মারা গেছে বলে জানা গেছে। তবে সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসেফ প্যাটারসন বলেছেন, ‘আমরা বেঁচে আছি এবং খুশি যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়েনি। তিনি সেন্ট এলিজাবেথ প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিম জ্যামাইকান শহর বোগেতে বসবাস করেন। তিনি বলেছেন, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন, রাস্তা বন্ধ এবং স্থানীয় খামারগুলোর ক্ষতি হয়েছে। জ্যামাইকার দুর্যোগ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান রিচার্ড থম্পসন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। এখন পর্যন্ত বেরিলে সেখানে শুধু একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রধান বিদ্যুৎ কম্পানির অর্ধেকেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিল। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের রূপ আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে বেরিল কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে হারিকেনটি। বেরিলের কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে ৪-৬ ইঞ্চি (১০-১৫ সেন্টিমিটার) বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। মেক্সিকোর ইউকাটানে একই পরিমাণ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের সর্বশেষ তথ্য মতে, হারিকেনটি গ্র্যান্ড কেম্যানের প্রায় ১৩৫ মাইল (২১৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থান করছে। ইউকাটান উপদ্বীপের পূর্ব উপক‚ল থেকে মেক্সিকোর তুলুমের দিকে যাচ্ছে। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাতাসের শক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এটি মেক্সিকোর ইউকাটান উপদ্বীপে না আসা পর্যন্ত হারিকেনের শক্তি ধরে রাখবে। এর আগে বেরিল মহাশক্তি নিয়ে আঘাত হানে ক্যারিবীয় ইউনিয়ন দ্বীপে। সেখানে সব বাড়িঘর ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগে একটানা বাতাসসহ চার ক্যাটাগরি হারিকেন হিসেবে বেরিল দ্বীপটিতে আঘাত হানে। দ্বীপটিতে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। অনেকে সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস, গ্রেনাডা এবং সেন্ট লুসিয়াতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। ঝড়ের তাÐব দেখে স্থানীয়রা হতবাক হয়ে গেছেন। সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন্সের কাছে অবস্থিত দ্বীপের প্রতিটি বাড়ি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। মহাশক্তিশালী ঝড় বেরিলের ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে গোটা ইউনিয়ন দ্বীপে। প্রায় পুরো দ্বীপের বাসিন্দারা এখন গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বলে একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি জানান, দ্বীপটির প্রায় সব বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে ঝড়ের তান্ডবে। বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তায় ভেঙে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। সূত্র : রয়টার্স


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com