• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬:০৫

দক্ষিণ আফ্রিকা সুপার এইটে জয় পেয়েছে

প্রতিনিধি: / ১৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

স্পোর্টস: নিষ্প্রভ কুইন্টন ডি কক সুপার এইটে প্রথম ম্যাচেই ছড়ালেন আলো। তার বিস্ফোরক ফিফটি এবং এইডেন মারক্রাম ও হাইনরিখ ক্লসেনের কার্যকর ইনিংসে বড় পুঁজি গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় চমৎকার ব্যাটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বাস্য এক জয়ের আশা দেখালেন আনড্রিস হাউস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছাতে পারলেন না তিনি। অ্যান্টিগায় বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ রানে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৪ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে তারা থামিয়ে দেয় ১৭৬ রানে। আসরে প্রথম চার ম্যাচে কেবল ৪৮ রান করাডি ককের ব্যাট অবশেষে জ¦লে ওঠে। ৫ ছক্কা ও ৭ চার৪০ বলে ৭৪ রানেরইনিংস খেলেম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। মারক্রামের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান, ক্লসেন করেন ৩৬। লক্ষ্য তাড়ায় ৭৬ রানে ৫ উইকেট হারানো যুক্তরাষ্ট্রকে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে টানেন হাউস। পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৪৭ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার সঙ্গে হারমিত সিংয়ের ৯১ রানের জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখে দলটি। কিন্তু শেষ দুই ওভারে ২৮ রানের সমীকরণে কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নরকিয়ার দুর্দান্ত বোলিংয়ে বেশিদূর যেতে পারেনি তারা। তৃতীয় ওভারে রিজা হেনড্রিকসকে হারানোর চাপ দলের ওপর পড়তে দেননি ডি কক। পরের ওভারেই তিনি জাসদিপ সিংকে মারেন তিন ছক্কা ও এক চার। সঙ্গে মারক্রামের চারে ওভারটি থেকে আসে ২৮ রান। নাসথুশ কেনজিগিকে দুই চারের পর ষষ্ঠ ওভারে আলি খানকে ছক্কায় ওড়ান ডি কক। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৪ রান তোলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা। ডি ককের ঝড় চলতে থাকে পরেও। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৬ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন মারক্রাম। তাদের ব্যাটে ১০ ওভারে ১০১ রান করে ফেলে দলটি। কোরি অ্যান্ডারসনের ওভারে এক ছক্কা ও দুই চার মারা ডি কক হারমিতকে ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়েন বাউন্ডারিতে। তার বিদায়ে ভাঙে ৬০ বল স্থায়ী ১১০ রানের জুটি। পরের বলে ডেভিড মিলারের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি বাঁহাতি স্পিনার হারমিত। এক ওভার পর মারক্রামের ১ ছক্কা ও ৪টি চারে সাজানো ৩২ বলের ইনিংসটি থামান সৌরভ নেত্রাভালকার। এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি ক্লসেন ও স্টাবস। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটিতে দুইশর কাছে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকার রান। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় দ্রæত রান তুলতে থাকা স্টিভেন টেইলরকে টিকতে দেননি রাবাদা। মার্কো ইয়ানসেনকে ছক্কা মারা নিতিশ কুমারও অভিজ্ঞ এই পেসারের শিকার। দুই উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রান তোলে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যারন জোন্সকে রানের খাতা খুলতে দেননি কেশভ মহারাজ। ছক্কা হজম করার পরের বলেই অ্যান্ডারসনের স্টাম্প ভেঙে দেন নরকিয়া। আরেকটি উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাল ধরেন হাউস ও হারমিত। তাদের ব্যাটে দ্রæত আসতে থাকে রান। নরকিয়াকে দুই ছক্কা ও এক চার মেরে ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন হাউস। ওই ওভার থেকে আসে ১৯ রান। তাব্রেজ শামসির ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান হাউস, একটি মারেন হারমিত। ওভারটিতে ২২ রান দেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার। পরের ওভারে প্রথম বলে হারমিতকে ফিরিয়ে দেন রাবাদা। অসাধারণ বোলিংয়ে ওভারটিতে কেবল ২ রান দেন তিনি। শেষ ওভারে নরকিয়ার দারুণ বোলিংয়ে ২৬ রানের কঠিন সমীকরণের ধারেকাছেও যেতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৯৪/৪ (ডি কক ৭৪, হেনড্রিকস ১১, মারক্রাম ৪৬, মিলার ০, ক্লসেন ৩৬*, স্টাবস ২০*; নেত্রাভালকার ৪-০-২১-২, আলি ৪-০-৪৫-০, জাসদিপ ২-০-৩৬-০, কেনজিগি ৩-০-২৯-০, হারমিত ৪-০-২৪-২, টেইলর ২-০-২১-০, অ্যান্ডারসন ১-০-১৭-০)
যুক্তরাষ্ট্র: ২০ ওভারে ১৭৬/৬ (টেইলর ২৪, হাউস ৮০*, নিতিশ ৮, জোন্স ০, অ্যান্ডারসন ১২, শায়ান ৩, হারমিত ৩৮, জাসদিপ ২*; ইয়ানসেন ৩-০-৩২-০, মারক্রাম ১-০-১৩-০, রাবাদা ৪-০-১৮-৩, মহারাজ ৪-০-২৪-১, নরকিয়া ৪-০-৩৭-১, শামসি ৪-০-৫০-১)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com