• শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৭

চলতি আইনেই দুর্নীতিবাজদে ধরা হবে: ওবায়দুল কাদের

প্রতিনিধি: / ১৬ দেখেছেন:
পাবলিশ: রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

দুর্নীতিবাজদের ধরতে সরকারপ্রধানের কথার পুনরাবৃত্তি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের ধরতে বরশিতে ‘আধার’ দেওয়া হয়েছে, তাই তারা ধরা ‘পড়বেই’। দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করার জন্য নতুন করে আইন প্রণয়নের প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না তিনি। রোববার দুপুরে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, জেলা আওয়ামী লীগ এবং সবকটি সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় কথা বলছিলেন কাদের। দুর্নীতিবাজদের ধরতে নতুন কোনো আইন দরকার হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন আছে, আইন নতুন করে করতে হবে না। নেত্রী যেটা বলেছেন, সেটা আমিও বলব। আঁধার দিয়েছি, রুই কাতলা ধরা পড়বে। নতুন অর্থবছরে বাজেট পেশ করার পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণভাবে ‘কালো টাকা’ হিসেবে অপ্রদর্শিত আয় সাদা বা বৈধ করার সুযোগ দেওয়াকে বড়শিতে আঁধার গেঁথে মাছ শিকারের সঙ্গে তুলনা করে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি বলি মাছ ধরতে গেলে তো আঁধার দিতে হয়, দিতে হয় না? আঁধার ছাড়া তো মাছ আসবে না। সেই রকম একটা ব্যবস্থা, এটা আসলে আগেও হয়েছে। সেই তত্ত¡াবধায়ক আমলেই শুরু করেছিল, আর পরেও প্রত্যেক সরকারই করে।” বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের কথাতুলে ধরে কাদের বলেন, কালো টাকা সাদা তো সাইফুর রহমান করেছে, বেগম খালেদা জিয়াও করেছেন। বেগম জিয়া এখন বৃদ্ধ মানুষ। তারাও তাহলে দুর্বৃত্ত? এই বাজেট করা হয়েছে রাঘব বোয়ালদের লুটপাট বন্ধ করার জন্য। বিএনপির ‘অগ্নিসন্ত্রাস ও হুমকি’ মোকাবেলায় আগামীতেও শান্তি সমাবেশ করতে দলের কর্মীদের তাগিদ দেন ওবায়দুল কাদের। ‘সীমান্ত এলাকায় হত্যার মহোৎসব চলছে’ বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ নিয়ে কাদের বলেন, “সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটে। বিএনপির আমলে তো এটা আরও বেশি হয়েছিল। কিন্তু এটা যে মহোৎসব বা উৎসব এটা তো বলা যায় না। কোনো ঘটনা ঘটলেই কিন্তু দুদেশ এক সাথে বসছে, আলাপ আলোচনা করছে। এর পুনরাবৃত্তির রোধে কার্যকর ব্যবস্থাও নিচ্ছে। হত্যার উৎসব বা মহোৎসব এইগুলো বিএনপির আবিষ্কৃত শব্দ। তারা নিজেরা যা চর্চা করেছে এখনো মনে করে তাই হবে। বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি যে লুটপাটের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল, দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, অন্ধকার পথ থেকে শেখ হাসিনা এই দেশকে উদ্ধার করেছে। লুটপাট আমরা বন্ধ করেছি। দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।” নিজের লোকজনকে শায়েস্তা করার সাহস ‘বিএনপির নেই’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের শাসনামলের চিত্র তুলে ধরেন কাদের। তিনি বলেন, “বুয়েটে সনি হত্যার বিচার কে করেছে? আর আবরার হত্যায় যে কয়েকজন মৃত্যুদÐ পেয়েছে সবাই ছাত্রলীগ বলে পরিচিত। বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার কি হয়নি? তারা (বিএনপি) তাদের সময় তাদের দলীয় কোন নেতার একটা বিচার করেছে? আশরাফুল হুদা, রকিবুল হুদা, এসপি কোহিনূর এদের বিচার কে করেছে? বেনজীর, আজিজ সাহেবেরা দুর্নীতি করে কেউ ছাড় পাবেন না। তারা আওয়ামী লীগের লোক নন। একজন পুলিশ অফিসার আরেকজন সেনা অফিসার। কথা হচ্ছে দুর্নীতি করে কেউ ছাড় পেয়েছে কি না? যেটা বিএনপি করেছে। আমরা ইমপিউনিটি কালচার গড়ে তুলিনি। গাজায় নির্বিচার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা সবাই চোখেও দেখি না, কানেও শুনি না। আমরা সবাই যেন বধির হয়ে গেছি। ৯ মাস পরে ৪ জন হোস্টেজকে উদ্ধার করল, তাতে মনে হচ্ছে বিশ্বনেতা যেন ইসরালেয়ের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল (শনিবার) ইন্টারন্যাশনাল সব মিডিয়া তাকে একজন মহামানব বানিয়েছে। আর বাইডেন সাহেব ফ্রান্সে বসে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সারা পৃথিবী সাক্ষী, শেখ হাসিনা ছাড়া একজন রাষ্ট্রনেতা বললেন না যে ২১৩ জন সিভিলিয়ান শিশু, নারীসহ হত্যা করে চারজনকে উদ্ধার করেছে। এই ২১৩ জনের কথা বলার কি কেউ নেই? এই শিশুদের কি অপরাধ? এরা কি হামাস? এই সিভিলিয়ান হত্যার বিচার কি হবে না? একটা কথাও বলেন নাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। আর আমাদের আরব বিশ্ব মনে হচ্ছে ঘুমাচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com