• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ১১:২৮

খালি মাইনাস পয়েন্ট দেখলে তো হবে না: তাসকিন আহমেদ

প্রতিনিধি: / ২০ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪

স্পোর্টস: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকে সবকটি আসর খেলেছে ৯টি দেশ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশ পারেনি সেমি-ফাইনাল খেলতে। চলতি বিশ্বকাপে তাদের সামনে ছিল সেরা চারে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে সুপার এইট থেকেই ফিরেছে তারা। তবে সেরা আটে খেলাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তাসকিন আহমেদ। শুধু নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েই আলোচনা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক। বিশ্বকাপের অভিযান শেষ করে শুক্রবার সকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। ছুটিতে চলে যাওয়ায় আসেননি কোচিং স্টাফের বিদেশি সদস্যরা। আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে তাদের। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তাসকিন। অনেক কথার ভিড়ে তিনি মেনে নেন, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচকই ছিল বেশি। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। গ্রæপ পর্বে চার ম্যাচের তিনটি জিতে তারা নাম লেখায় সুপার এইটে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচেও ছিল দারুণ সুযোগ। ১১৪ রানের লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হেরে গিয়ে অপরাজিত থাকা হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলের। সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুপার এইটে আর জয়ের দেখা মেলেনি। অস্ট্রেলিয়া, ভারতের বিপক্ষে তো লড়াই করতেই পারেনি বাংলাদেশ। তবু অন্যান্যের ফল পক্ষে আসায় শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ পায় সেরা চারে নাম লেখার বড় সুযোগ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১২.১ ওভারে ১১৬ রান করতে পারলেই প্রথমবার সেমি-ফাইনালে উঠে যেতেন শান্ত-তাসকিনরা। সেন্ট ভিনসেন্টের উইকেটে কাজটি সহজ ছিল না। কিন্তু সমীকরণ মেলানোর চেষ্টাই সেভাবে দেখা যায়নি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচটি উল্টো ৮ রানে হেরে যান তাসকিনরা। সব মিলিয়ে সাত ম্যাচে জয় তিনটি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও জয়ের সংখ্যায় এটিই বাংলাদেশের সেরা। এর আগের চার আসরে তারা জিতেছিল তিনটি করে ম্যাচ। এবার সেটি ছাপিয়ে প্রথম আসরের পর আবার নাম লিখিয়েছে সুপার এইটে। দেশে ফিরে তাসকিন সেই উন্নতির চিত্র তুলে ধরলেন। হতাশাগুলো অবশ্য মানছেন তিনিও। প্রতিশ্রæতি দিলেন ভবিষ্যতে আরও ভালো করার।”ধীরে ধীরে তো উন্নতি হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুরু থেকেই আমাদের পরিসংখ্যান ভালো ছিল না। আগের থেকে তো উন্নতি হচ্ছে। খালি মাইনাস পয়েন্ট দেখলে তো হবে না। এমনিতে মাইনাসেই আছি আমরা। প্লাসে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, করেই যাব। আপনারা হতাশ হচ্ছেন, স্বাভাবিক। আবার আমরাও আপনাদের ভালো জয় উপহার দেব। বিশ্বাস রাখেন আমাদের ওপর। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি।” দলের পক্ষে ঢাল ধরে উন্নতির কথা শোনালেও আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে জয়ের তাড়নাই ছিল অনুপস্থিত। আগের দুই ম্যাচ হেরে বসায় এই ম্যাচে হারানোর কিছু ছিল না দলের, কিন্তু পাওয়ার ছিল অনেক কিছু। এমন ম্যাচে ১২.১ ওভারে লক্ষ্য তাড়ার জন্য সে অর্থে চেষ্টাই করেনি ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক শান্ত জানান, পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারানোর পর ¯্রফে জয়ের জন্য খেলেছে তার দল। যা আসলে কোনো অর্থই বহন করে না। ১২.১ ওভারের পরে ম্যাচ জিতলে বাড়তি কিছু অর্থ ছাড়া আর কিছুই পেত না বাংলাদেশ। ধারাভাষ্য কক্ষে নিউ জিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার সাইমন ডুলও অর্থের বিষয়টি ইঙ্গিত করে বিরক্তি প্রকাশ করেন। দেশে ফেরার পর ওই পরাজয়ের হতাশা মেনে নিয়ে বোলিং বিভাগ, জয়ের সংখ্যায় ইতিবাচক দিক দেখানোর চেষ্টা করেন তাসকিন। তবে সার্বিকভাবে টুর্নামেন্টে নেতিবাচক দিকই যে বেশি ছিল, তা মেনে নেন দলের সহ-অধিনায়ক। “আসলে সত্যি কথা বলতে, ভালোর তো কখনও শেষ নেই। ভালো হোক আর খারাপ হোকৃ হ্যাঁ, আরও অনেক ভালো হতে পারত। বিশেষ করে শেষ ম্যাচটা, আমরা সবাই একটু হতাশ হয়েছি। আমরা জেতার চেষ্টা করেছি প্রথমে, ১২ ওভারের মধ্যে। পরে যখন বুঝতে পারলাম ১২ ওভারের মধ্যে শেষ করা সম্ভব না, তখন স্বাভাবিকভাবে খেলার চেষ্টা করেছিল সবাই। তাও জিততে পারিনি।” “ইতিবাচক দিক আছে। পুরো টুর্নামেন্টে বোলিং বিভাগ যথেষ্ট ভালো করেছে। সুপার এইটে উঠেছি। সর্ব প্রথম এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা তিনটা জয় পেয়েছি। মানে ইতিবাচক আছে। কিন্তু নেতিবাচকের সংখ্যাটা একটু বেশি। সবার মতো আমরাও একটু হতাশ। প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো হয়নি।” বিশ্বকাপ খেলতে প্রায় দেড় মাস আগে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরুর আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচ সিরিজে তারা হেরে যায় ২-১ ব্যবধানে। এরপর প্রথম পর্বের তিন ম্যাচ জিতলেও ব্যাটিংয়ে ছিল খুবই বাজে অবস্থা। তবু বোলারদের কাঁধে চড়ে সেরা চারে ওঠার সুযোগ ঠিকই পেয়ে যায় তারা। সেখানেও মুখ থুবড়ে পড়ে ব্যাটিং। ফলে নতুন ইতিহাস লেখার দুয়ারে দাঁড়িয়েও সুপার এইটে খেলা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। যুক্তরাষ্ট্রে খেলা ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পেছনের অবশ্য উইকেটের দায় দেওয়া যায় অনেকটাই। হিউস্টনে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা নিউ ইয়র্ক ও ডালাসে বিশ্বকাপে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য একদমই সহায়ক ছিল না। বোলাররা পান বাড়তি সুবিধা। বোলিং বিভাগ আগাগোড়াই গত কয়েকটি বছর ধরে ভালো উন্নতি করে এসেছে। সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। সামনে আরও ভালো হবে। ভালোর তো শেষ নেই। আর ব্যাটিং বিপর্যয় যেটা, সত্যি বলতে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রে যখন খেলা হয়েছে, তখন উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষে খুব কম ছিল।” তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়ার পর অ্যান্টিগার তুলনামূলক ভালো উইকেটেও অবশ্য ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেড়শ ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ। তাসকিন বললেন, ব্যাটসম্যানদের টানা এমন ব্যর্থতা তিনি নিজেও আগে কখনও দেখেননি। “আপনারা যদি পরিসংখ্যান দেখেন, অন্যান্য দেশের বড় বড় ব্যাটসম্যানদেরও যুক্তরাষ্ট্রে ভুগেছে। সেখানে বোলারদের একটু বাড়তি সুবিধা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়ার পর আমরা কিছুটা ভালো উইকেটে খেলেছি। কিন্তু তাও আসলে… এত লম্বা… আমি বাংলাদেশ দলের হয়ে ক্রিকেট খেলার সময়, প্রায় ১০ বছর ধরে খেলছি, কখনোই ব্যাটিংয়ে এত লম্বা খারাপ সময় দেখিনি। আশা করি এটা খুব দ্রæত কেটে যাবে।” হতাশার এই আঁধারে টিমটিমে আশার আলো রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্স। পেস বিভাগে দারুণ করেন তানজিম হাসানও। সব সংস্করণ মিলিয়েই বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের প্রথম লেগ স্পিনার হিসেবে এবার সুযোগ পান রিশাদ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক পারফর্ম করেন তরুণ এই স্পিনার। সব মিলিয়ে ৭ ইনিংসে তার শিকার ১৪ উইকেট। বিশ্বকাপের এক আসরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এটি। সাকিব আল হাসানের ১১ উইকেট ছিল আগের রেকর্ড। রিশাদের মতোই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে সাকিবের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তানজিম। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সাত ম্যাচের সবকটিই খেলেছেন ২১ বছর বয়সী পেসার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ছাড়া নিয়মিতই আঁটসাঁট বোলিং করেন তানজিম। সব মিলিয়ে সাত ম্যাচে ওভারপ্রতি তার খরচ মাত্র ৬.২০ রান। বোলিং বিভাগের সাফল্যে তাই তানজিম ও রিশাদের আলাদা করে প্রশংসা করলেন তাসকিন। “তানজিম সাকিব, রিশাদ ওরা সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের মধ্যে ছিল, সেরা পাঁচে ছিল। রিশাদ এখনও আছে। সব মিলিয়ে ভালো করেছে। এটা খুবই ইতিবাচক যে বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতের তারকারা উঠে আসবে। এর মধ্যে বিশ্বকে বোঝানো হয়েছে যে আমাদের সবার মধ্যে বিভিন্ন সামর্থ্য আছে।” “এখন আসলে যে জিনিসগুলো হয়ে গেছে, আমরা সবাই ব্যথিত, হয়তো সমর্থকরাও হতাশ। বিশেষ করে কয়েকটা ম্যাচ হয়তো আমাদের জেতার কথা ছিল, সে অনুযায়ী পারিনি। বিশেষ করে শেষ ম্যাচটা আমরা ১২.১ ওভারে আমাদের সবারই পরিকল্পনা ছিল জেতার। আমরা সে ইন্টেন্ট নিয়েই খেলা শুরু করেছি। একটা পর্যায়ে যখন দেখলাম যে, মনে হচ্ছে আর হবে না ১২ ওভারে, তখন স্বাভাবিকভাবে জেতার চেষ্টা করার পরিকল্পনা হয়। তারপর আমরা ওটাও চেষ্টা করে পারিনি। এখন আর কী করার।”


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com