• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০১:০২

উন্নয়নের মধ্যেও সড়কের বিশৃঙ্খলা আমাদের ভোগাচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

প্রতিনিধি: / ১৯ দেখেছেন:
পাবলিশ: বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এত উন্নয়নের মধ্যেও সড়কের বিশৃঙ্খলা আমাদের ভোগাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সারা দেশে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের জন্য সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। নিরাপদ সড়ক চাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে সড়কে শৃঙ্খলা অনেকটা ফিরে আসবে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান। সেতুমন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের খুব ভোগাচ্ছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক দুর্ঘটনা বেশি এটা দুর্ভাগ্যজনক। দুর্ঘটনার চিত্র দেখলে দেখা গেছে মোটরসাইকেলে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এরপর ইজিবাইক। বেপরোয়া ড্রাইভিংও আছে। এটাকে বাদ দেওয়ার উপায় নেই। তিনি আরও বলেন, সচিবকে বলবো দ্রæত নীতিমালা করার জন্য। সারা দেশে লাখ লাখ তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেলের জন্য শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সেজন্য নীতিমালাটা জরুরি। মানুষের জীবন আগে, জীবিকা পরে। জীবিকাকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। ভোটের রাজনীতি যারা করেন তাদের এতে সায় আছে। ইজিবাইক হাইওয়েতে চলে এটিকে অনেকে সমর্থন করেন। অথবা পেছন থেকে মদদ দেন। ঢাকায় যে নিয়ম চালু করেছি তাতে ৯৮ শতাংশ দুজনেরই হেলমেট থাকে। সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্ব সংকটে আছে। সেটার রেস কবে শেষ হবে সেটা বলা মুশকিল। বিশ্ব রাজনীতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কেউ সুখে নেই, আমরাও নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়কে ঈদযাত্রা অনেকটা ভালো হয়েছে। কিন্তু ফিরতি পথের বিষয়টি এখনও রয়েছে। এদিকে অনেকটা নজর কম থাকে, তাই দুর্ঘটনাও ঘটে অনেক সময়। তাই ফিরতি পথটাও এখন দেখতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রশ্নে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে আমরা আঙুল চুষব না। অর্থাৎ, ওপার থেকে কোনো আক্রমণ এলে বাংলাদেশ ছেড়ে কথা বলবে না। বিএনপি অভিযোগ করেছে সেন্ট মার্টিন ইস্যুতে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলের একটা ভাষা আছে সরকারি দলের সিদ্ধান্তকে তারা নতজানু আখ্যায়িত করে। কিন্তু কীভাবে নতজানু, সেটা একটু ব্যাখ্যা করে দিক না। সেন্ট মার্টিনে যে গুলিটা এসেছে, সেটা মিয়ানমার সরকার করেনি। এটা আরকান আর্মি নামে যে বিদ্রোহীরা আছে, তাদের গুলি। যেকোনো উস্কানির মুখে বাংলাদেশ যুদ্ধে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনায় সমাধানে বিশ্বাসী। সেখানে যে জাহাজের কথা বলা হয়, সে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার উস্কানি দিলে আমরা তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করবো। একটা সমাধান বের করবো। যুদ্ধে জড়াব না। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি যুদ্ধে জড়াতে চান, তাহলে উস্কানির ফাঁদে আমরা পড়তে পারি? আমরা সরকারে আছি, আমাদের দায়িত্ব আছে, কর্তব্য আছে। সার্বভৌমত্ব চলে গেলে আমাদেরই ব্যথা লাগবে বেশি। কারণ, এ জাতির মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার লড়াইয়ে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফখরুল তখন (মুক্তিযুদ্ধের সময়) কী করেছেন, কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, তা জানি না। এসব কথা বলে লাভ নেই। সার্বভৌমত্ব ঠিক আছে। সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে, আলাপ-আলোচনার সময় পেরিয়ে যদি যায়, যদি সত্যিই তারা আক্রমণে আসে, তখন কী আমরা বসে থাকব, আমরা বসে বসে আঙুল চুষবো? আমাদেরও পাল্টা জবাব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা এখনও কোনো আক্রমণ দেখিনি। তাদের (মিয়ানমার) অভ্যন্তরীণ ৫৪টি গোষ্ঠী আছে। ওদের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা। আমরা সীমান্তে আছি, গুলি এসে লাগতে পারে, গুলির আওয়াজ আসতে পারে, এটা সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তাদের নৃতাত্তি¡ক বিদ্রোহীরা আছে। তাদের থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে। সেটার জন্য কেন মিয়ানমার সরকারকে দায় দেব? যতদিন সম্ভব শেষ পর্যন্ত আমরা আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে চেষ্টা করবো। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে বাড়ার কারণে মানুষ স্বস্তিতে ঈদ করতে পারেনি। এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলব- কোরবানির ঈদে গত বছরের থেকে এ বছর ৩ লাখ গরু বেশি কোরবানি হয়েছে। কিছুকিছু জায়গায় ছোটখাটো যানজট হয়েছে। সেটা বেশি সময়ের জন্য নয়। তারপরও এবারের ঈদ যাত্রা মানুষ মধ্যে উল্লাস কাজ করেছে। অনেকেই ঈদ যাত্রায় সামিল হয়েছেন। এবার পদ্মা সেতুতে এক দিনে টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতুতে একদিনে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি টাকা। তাহলে অসুবিধা কোথায়। কোনো হিসেবেইতো ফখরুল সাহেবের বক্তব্য মিলছে না। বাস্তবে যা, তার সাথে ফখরুলের বক্তব্য মিলছে না। এটা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা, সমালোচনার জন্য সমালোচনা। দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সব দেশেই সংকট চলছে। কেউ সুখে নেই। সবারই একটা কষ্টকর অভিজ্ঞতা। আমাদেরও দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ আছে। যা সত্য তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কৃচ্ছতা সাধনের প্রয়াসও আসবে দেশে দেশে। ওবায়দুল কাদের বলেন, সবারই বাজেট সংকুচিত হয়েছে। এ সংকোচন কাজের প্রবাহকে ¯েøা করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে কঠিন এক বাস্তবতা বিরাজ করছে। বিশ্ব সংকটের এ রেশ কবে যে শেষ হবে বলা মুশকিল। সড়কমন্ত্রী বলেন, বড় বড় শক্তিগুলো বিশ্বযুদ্ধের মহড়ায় লিপ্ত রয়েছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে ৬৪ দেশে নির্বাচন হচ্ছে। ৩০টার মতো দেশে নির্বাচন হয়ে গেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে হয়েছে। ইন্ডিয়ায় হয়ে গেছে। সামনে ইংল্যান্ডের ইলেকশন। তারপর ইউএসের। সাউথ আফ্রিকার ইলেকশন হয়ে গেছে। পরিবর্তনও হচ্ছে। এসব নির্বাচনে বামপন্থার পরাজয় ঘটেছে অনেক জায়গায়। বিশ্ব রাজনীতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে আমাদের বাজেট হয়ে গেছে। পাসও হয়েছে। তবে এটা বাস্তবায়নটাই হচ্ছে মূল চ্যালেঞ্জ। বিদেশিরাও যারা ফান্ডিং করে তাদেরও সংকোচনের একটা বিষয় আছে। ঘাটে ঘাটে বিলম্ব হচ্ছে। এর মধ্যেই আমাদের শ্যাম-ক‚ল দুটোই রাখতে হবে। সেভাবেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। সবাই যার যার কাজ করবেন। কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। কেউ কাজে ফাঁকি দেবেন না।

 


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com