• শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০১:৫০
সর্বশেষ :
রেমালের জলোচ্ছাসে মোরেলগঞ্জে ৩ শ’ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত পঞ্চগড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল সংবাদ প্রকাশের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত মরিয়মকে চিকিৎসার অর্থ সহায়তা  সেতুমন্ত্রীর ঈদ পরবর্তী দুর্ঘটনা রোধে সড়কে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ এক লাখের বেশি কেন্দ্রে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪ পাকিস্তানি নিহত ইরান সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গেল একজনের উড়োজাহাজের সচল ইঞ্জিনের মধ্যে পড়ে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ইসরায়েল থেকে ইসরায়েল রাফায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে

ইতিহাস গড়া জয় নিউ জিল্যান্ডের

প্রতিনিধি: / ১১০ দেখেছেন:
পাবলিশ: শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

স্পোর্টস: টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলির একটি মনে করা হয় চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরিকে। সেই কঠিন কাজটিই যেন সবচেয়ে ভালোবাসেন কেন উইলিয়ামসন। আরও একবার নিজের সেই অনুরাগ আর দক্ষতার প্রমাণ রাখলেন তিনি। অসাধারণ আরেকটি শতকে স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে। তার হাত ধরে অনন্য এক সাফল্যের স্বাদ পেল নিউ জিল্যান্ড। উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে হ্যামিল্টন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭ উইকেটের দারুণ এক জয় পেল নিউ জিল্যান্ড। দুই ম্যাচের সিরিজ তারা জিতে নিল ২-০তে। সেই ১৯৩২ সাল থেকে টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ১৮ বারের চেষ্টায় অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল নিউ জিল্যান্ড। প্রোটিয়াদের অবশ্য দ্বিতীয় সারির দল এটি। এসএ টোয়েন্টিতে ব্যস্ত থাকায় মূল ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই অনুপস্থিত এই সফরে। তবে কিউইদের জন্য এটিই ইতিহাস। তাদের টেস্ট ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান এই জয়েরও নায়ক। সেডন পার্কের উইকেটে ছিল অসমান বাউন্স। বল থমকে এসেছে খানিকটা। স্পিনারদের টার্নও মিলেছে বেশ। কিন্তু উইলিয়ামসন ছিলেন বরাবরের মতোই নির্ভরতার প্রতীক। প্রায় নিখুঁত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১২ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২৬০ বলে ১৩৩ রানে। দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় সবশেষ ৭ টেস্টে এটি তার সপ্তম সেঞ্চুরি। ৩৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের টেস্ট সেঞ্চুরি হয়ে গেল মোট ৩২টি। চতুর্থ ইনিংসে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি। চতুর্থ ইনিংসের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডে তিনি স্পর্শ করলেন পাকিস্তানি গ্রেট ইউনিস খানকে। উইলিয়ামসনের এই পাঁচ সেঞ্চুরির চারটিতেই জিতেছে দল। শেষ ইনিংসে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরির রেকর্ডে তিনি ছুঁয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথকে। ম্যাচের সেরা অবশ্য উইলিয়ামসন নয়। অভিষেকে নিউ জিল্যান্ডের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচে সেরা হয়েছেন উইলিয়াম ও’রোক। আগের দিন শেষ ওভারে উইকেট হারানো নিউ জিল্যান্ড শুক্রবার দিনের শুরুর দিকে হারায় টম ল্যাথামকে। ২১ রানে দিন শুরু করা ওপেনার ফিরে যান ৩০ রান করে। উইলিয়ামসন যথারীতি সাবলীল ব্যাটিংয়েই শুরু করেন। রাচিন রাভিন্দ্রার সঙ্গে জুটিতে এগিয়ে নেন দলকে। লাঞ্চের একটু পর ৬৪ রানের এই জুটি ভাঙেন ডেইন পিট। এই অফ স্পিনারের তৃতীয় শিকার হয়ে বিদায় নেন ১২৯ মিনিটে ২০ রান করা রাভিন্দ্রা। এই জুটি ভাঙার পর বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে ওঠেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক নিল ব্রান্ড ও তার সতীর্থরা। কিন্তু এরপর আর কোনো সাফল্য পাননি তারা। উইলিয়ামসন ও উইল ইয়াংয়ের দেড়শ রানের জুটিতেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। ১১৩ বলে ফিফটি ছুঁয়ে একইরকম আস্থায় এগিয়ে যান উইলিয়ামসন। শতরানে পা রাখেন তিনি ২০৩ বল খেলে। মাইলফলকের পরও একটুও মনোযোগ না হারিয়ে কাজ শেষ করে ফেরেন তিনি। আরেকপাশে দারুণ সঙ্গ দিয়ে যান ইয়াং। ড্যারিল মিচেলের চোটের কারণে সুযোগ পাওয়া ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৬০ রানে। চতুর্থ উইকেটে দুজনর অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ১৫২ রান। দুই টেস্টে তিন সেঞ্চুরিতে ৪০৩ রান করে সিরিজ সেরার স্বীকৃতি পান উইলিয়ামসন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ২৪২
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২১১
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ২৩৫
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৬৭, আগের দিন ৪০/১) ৯৪.২ ওভারে ২৬৯/৩ (ল্যাথাম ৩০, কনওয়ে ১৭, উইলিয়ামস ১৩৩*, রাভিন্দ্রা ২০, ইয়াং ৬০*; প্যাটারসন ২২-৫-৫৮-০, মোরেকি ১৮.২-৪-৪৪-০, পিট ৩২-৪-৯৩-৩, ফন বার্গ ১৬-০-৬০-০, দু সুয়াত ৬-৩-৭-০)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: উইলিয়াম ও’রোক।
ম্যান অব দা সিরিজ: কেন উইলিয়ামসন।


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com