• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৮

অরুণা বিশ্বাস ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ ঝাড়লেন

প্রতিনিধি: / ১০৯ দেখেছেন:
পাবলিশ: শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

বিনোদন: ‘সিন্ডিকেটের নামে সব গুণী শিল্পীগুলোকে কাজ না দিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখে জীবিত মেরে ফেলা হচ্ছে। আর মঞ্চে চলছে দাঁড়িয়ে হাহুতাশ। অসম্মান, অশ্রদ্ধা এসব পাওয়ার জন্য শিল্পীর জন্ম নয়।’- এমন কথা লিখে এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ ঝাড়লেন অরুণা বিশ্বাস। এরপর গণমাধ্যমে তিনি জানান, শক্তিমান অভিনয়শিল্পী আহমেদ রুবেলের মৃত্যু তাকে নাড়া দিয়েছে। এক যুগের বেশি সময় ঢাকা ছেড়ে গাজীপুরের জয়দেবপুরে নিজ বাড়িতে গিয়ে থাকা শুরু করেন। আশির দশকের মাঝামাঝি কলেজ পড়তে ঢাকায় আসা আহমেদ রুবেল জীবনের দুই যুগ কাটান। অভিনয়ের ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় নতুন কোনো কাজে যুক্ত হলে তবেই ঢাকায় আসতেন। এর বাইরে অন্য সময়টায় জয়দেবপুরের ছায়াবীথি এলাকায় থাকতেন। অরুণা বিশ্বাসের মতে, আহমেদ রুবেলের মতো অভিনয়শিল্পী সিন্ডিকেটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তাই কাজের ব্যস্ততা কমে যায়। রাগে ক্ষোভে অরুণা বিশ্বাস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অখাদ্য-কুখাদ্য জোর করে গেলাচ্ছেন, বলছেন দর্শকের রুচি খারাপ। সিন্ডিকেটের নামে সব গুণী শিল্পীকে কাজ না দিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখে জীবিত মেরে ফেলছেন, আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাহুতাশ। অসম্মান, অশ্রদ্ধা এসব পাওয়ার জন্য শিল্পীর জন্ম নয়। অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘আজকে আহমেদ রুবেল মারা গেছে। সবাই অনেকে দুঃখ প্রকাশ করতেছে। ঠিকাছে। অনেকে আবার এও বলছেন, তিনি দেরি করে সেটে আসতেন। ফরীদি ভাই সম্পর্কেও এ রকম বলতে শুনেছি। আরে ভাই, গুণী শিল্পীরা একটু এ রকম হয়। তারা একটু যদি এ রকম করেনও, আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষদের এগুলো মেনে নেওয়া উচিত। আমি মনে করি, দেশের স্বার্থে, সংস্কৃতির স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে এসব মেনে নেওয়া উচিত। এখনো অনেক গুণী শিল্পী, তাদের সম্মান, শ্রদ্ধা ও যতেœ আগলে রাখা উচিত। কাজের মধ্যে রাখা উচিত। তাঁদের নিয়ে নতুন সব চরিত্র ভাবা উচিত।’ সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গুণী শিল্পী আছেন, যারা বসে আছেন। কাজ করতে চান। অনেক সিনিয়র শিল্পীও আছেন, শিল্পের পথে যাদের দীর্ঘ ভ্রমণ, যারা এটাই শুধু অভিনয়টাই শিখেছেন। অভিনয়টাই করে গেছেন আজীবন-সেই তারাও দিনের পর দিন কাজ থেকে বঞ্চিত। সেদিন এক আড্ডায় কয়েকজন সিনিয়র শিল্পী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এত বড় মাপের শিল্পী তারা, সম্মান রক্ষার্থে নাম নিচ্ছি না। আমি নিজেও তো সেভাবে ভালো কোনো কাজের জন্য ডাক পাই না। কাজ কিন্তু আয় রোজগারের জন্য না। আমি নাহয় সারভাইব করছি। সত্যিকারের শিল্পীদের আসলে শিল্পের একটা খুদা আছে। সব সময় এখানে টাকাপয়সা ম্যাটার করে না। আমরা তো এখন একজন আরেকজনকে সঠিকভাবে শ্রদ্ধা করতেই শিখিনি। আহমেদ রুবেল মারা যাওয়ার পর এসব আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। অরুণা বিশ্বাস আরও বলেন, কালকে দেখলাম পরিচালক আমিতাভ রেজা বলছেন, আহমেদ রুবেল মানুষটা খুব নিঃসঙ্গ ছিলেন। আমি তো বলব, আহমেদ রুবেলকে নিঃসঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তাকে তো অনেক দিন ধরে কাজই দেওয়া হয়নি। তিনি যদি কাজের মধ্যে থাকতেন, আনন্দেই থাকতেন। মনটা সতেজ থাকত। অথচ আজ মরার পর কতশত নিউজ। কত অ্যাঙ্গেলের নিউজ। অথচ বেঁচে থাকা অবস্থায় যদি এর অর্ধেক গুরুত্ব দিয়েও যদি তার খবর নেওয়া হতো, তার ঢাকা ছেড়ে জয়দেবপুর চলে যাওয়া লাগত না। আমার ধারণা, এসব তাকে অনেক কুড়ে কুড়ে খেয়েছে। কোনো মানুষকে নিসঃঙ্গ করে দেওয়া অপরাধ, যা আহমেদ রুবেলের ক্ষেত্রে ঘটেছে। অথচ তিনি দেখতে সুন্দর, কী বলিষ্ঠ কণ্ঠ, কী অসাধারণ সংলাপ বলতেন-তার তো এভাবে নিঃসঙ্গ হওয়ার কথা নয়।’


এই বিভাগের আরো খবর
https://www.kaabait.com